• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

অস্ত্র ঢুকছে

রাজধানীর প্রবেশ পথ অরক্ষিত

কাজে আসছে না সিসি ক্যামেরা

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

সন্ত্রাসীদের হাতে চোরাইপথে আনা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীতে এসব অস্ত্র বেচাকেনা হচ্ছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক অভিযানে একের পর এক অস্ত্রের চালান আটক হওয়ায় রাজধানীর প্রবেশপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবেশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশের নানা উদ্যোগের পরও ঢুকছে একে-২২ রাইফেলসহ নানা অস্ত্র। চোরাইপথে আনা অস্ত্র বেচাকেনার সময় রাজধানীর খিলগাঁও, গেন্ডারিয়া ও সায়েদাবাদ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে রাইফেল, পিস্তল ও গুলিসহ অন্য অস্ত্র উদ্ধার করছে। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও আধিপত্য বিস্তার ধরে রাখতে এবং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুদ করছে সন্ত্রাসীরা।

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জন্য ঢাকার প্রবেশপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও অস্ত্রের চালান ঢুকছে। এছাড়াও পুরো শহরজুড়ে পোশাকে ও সাদা পোশাকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হলেও তার মধ্যেও অস্ত্র ঢুকছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র শহরে ঢোকার নেপথ্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ৩০ জুন রোববার রাজধানী সায়েদাবাদ এলাকা থেকে একটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই মডেলের রাইফেল গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা ব্যবহার করেছিল। ৩০ জুন রোববার রাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় অস্ত্রটি হাতবদলের সময় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃর্তরা হলো, সাঈদুল ইসলাম ও কামাল হোসেন। তাদের কাছ থেকে দুটি ম্যাগজিন ও ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অস্ত্রের হাতবদলের জন্য ছয়জন উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চারজন পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃর্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা অস্ত্র ব্যবসায়ী। হাতবদলের জন্য তারা এখানে এসেছিল। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত একে-২২ অস্ত্রটি সোভিয়েত রাশিয়ার তৈরি। এর ওজন প্রায় সাড়ে চার কেজি। বাংলাদেশে এর দাম প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এছাড়াও সম্প্রতি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার একটি কাঁচাবাজারে অবস্থান নিয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র বেচাকেনা করা হচ্ছেÑ এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ২টি বিদেশি রিভলবার, ৭টি ম্যাগাজিন ও ১২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাজু গাজীর বাড়ি চাঁদপুর। মিনহাজুল ইসলাম খিলগাঁও এলাকায় থাকেন। খিলগাঁও মডেল কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন। আর শওকত হোসেনের (৩৮) বাড়ি টাঙ্গাইল।

পুলিশ জানায়, গেন্ডারিয়া কাঁচাবাজারে একদল অস্ত্র ব্যবসায়ী অস্ত্র লেনদেন করতে পারে এমন খবর পেয়ে শ্যামপুর থানার ওসির তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় একজন ব্যাগ থেকে অস্ত্র নিয়ে কোমরে রাখছিল। তখন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যাগভর্তি ৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অন্য আসামি মিনহাজের কাছ থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ২টি বিদেশি রিভলবার, ৭টি ম্যাগজিন ও ১২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অপরাধীরা বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের উদ্দ্যেশে অস্ত্র নিয়ে রাজধানীতে ঢুকতে পারে। এছাড়াও অস্ত্রগুলো কাউকে ভাড়া দিতে আনা হতে পারে। কী উদ্দেশে আনা হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। ২/৩ জন পালিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অপর দিকে গত জুলাই মাসে রাজধানীর খিলগাঁও একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র, গুলিসহ তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করেছে। খিলগাঁও থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলো- খান মোহাম্মদ ফয়সাল, জিয়াউল আবেদীন ওরফে জুয়েল ও জাহিদ আল আবেদিন ওরফে রুবেল। তাদের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও বিভিন্ন অস্ত্রের ৪৭টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবি জানান, খিলগাঁও এলাকার ২৬৯/এ/ক সিপাহীবাগের একটি বাসার সামনে থেকে প্রথমে ফয়সাল নামে একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ফাইভ স্টার নিবাস নামে একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালানোর সময় ওই ভবনের আটতলার বাঁ পাশের ফ্ল্যাট থেকে জুয়েল ও রুবেলকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ ফ্ল্যাটে আরও অস্ত্র মজুত আছে। তখন তল্লাশি করে বিদেশি রিভলবার, রাইফেলসহ গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযান চালানোর সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।

শীর্ষ অপরাধীদের মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করে এক গডফাদার। তারা মূলত চুক্তিতে হত্যা করে থাকে। এ ধরনের সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কাছে একে-২২ রাইফেলের মতো অস্ত্র থাকা বিস্ময়কর ব্যাপার বলে মনে করছেন ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ ঘটানোর জন্য তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করতো। এছাড়া চাঁদাবাজি ও ছিনতাই চক্র তারা নিয়ন্ত্রণ করতো। তবে হত্যাই তাদের প্রধান কাজ। আর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ চক্র ডাকাতি, প্রভাব বিস্তার ও পশুর হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি করে থাকে। এ চক্রের সঙ্গেও গ্রেফতারকৃতদের যোগসাজশ থাকতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী ব্রিজ, আমিনবাজার ও গাবতলী, কাঁচপুর, ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রিজ, সদরঘাট, বুড়িগঙ্গা নদীর উপর ২টি সেতুসহ রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, চেকপোস্টে তল্লাশিসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো একে-২২ রাইফেলসহ অত্যাধুনিক মারাত্মক অস্ত্র ঢুকছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ অস্ত্রবাজদের গ্রেফতার করলেও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ, থানা-পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একাধিক অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার করা হয়েছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্রবাজদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কেউই ছাড়া পাবে না।