• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

রাজধানীতে আবারও বহুতল ভবনে আগুন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানীতে বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর এবার মিরপুর-১৪ নম্বর সেকশনে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার বিকাল ৫টার দিকে খান ম্যানশন নামক ১০ তলা ভবনটির ৬ তলায় আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় সোয়া ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুইজন ফায়ারম্যান আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন রুহুল আমিন। মিরপুর ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ওই দুই ফায়ারম্যানকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স ও মেইনটেনেন্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তলার ওই ভবনের ৬ ও ৭ তলার একপাশে আগুন লাগে। তবে যেখান থেকে (৬ তলা) আগুনের সূত্রপাতÑ সেখানে প্লাস্টিক, সিনথেটিক, গাম, বুট জুতা তৈরির কেমিক্যাল ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বহুতল ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, এমনকি ভবনটি নির্মাণের সময় যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। অবশ্য আগুনে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সেখানে গার্মেন্ট কারখানার মালপত্র রাখা হয়। পহেলা বৈশাখে ছুটি থাকায় সেখানে লোকজন ছিল না। ফলে তেমন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে উৎসুক জনতার কারণে উদ্ধার অভিযানে বেশ বিপত্তি পোহাতে হয়েছে। উপরের তলায় আগুন ছড়াতে পারেনি। কারণ সেখানে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা লিমা খানম গতকাল জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ভবনের মালিক যৌথভাবে নজরুল ইসলাম খান ও নূর উদ্দিন খান। ৬ তলা ফ্লোরটি জ্যাকেট, কম্বল ও মশারির গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করেন পাপ্পু। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাবু জানান, ভবনটি ৯ তলা। এর ওপর আরও অর্ধেক স্থাপনা করা হয়েছে। ঝুঁঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৫ বছর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করা হয়। এরপর ভবন মালিক গার্মেন্ট না করে গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেন।

গতকাল দুপুরে ভবনটি পরিদর্শনে আসেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অতিরিক্ত পরিচালক আনোয়ার হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রোববার ছুটির দিন হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দুর্বল। তিনি বলেন, ভবনের ৬ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত উপস্থিত হয়ে কাজ শুরু করায় উপরের তলায় আগুন ছড়াতে পারেনি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকান্ডের পর বিজিএমইএর প্রতিনিধি হিসেবে ইয়াং ফোর এভার টেক্সটাইল লিমিটেডের মালিক রাজীব চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকান্ডের পর বেশকিছু টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালে গার্মেন্টে আগুন লেগেছে বলে সংবাদ এসেছে। তা দেখে বিদেশের বায়াররা আমাদের ফোন দিচ্ছেন। এ কারণেই বিজিএমইএর প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আসার পর দেখেছি, এখানে কোনো গার্মেন্ট নেই। একটি গোডাউনে আগুন লেগেছিল।

মগবাজারে গ্যারেজের গাড়িতে আগুন : রাজধানীর মগবাজার কাজী অফিস গলির ১১৬ নম্বর বাড়ির বেজমেন্টে একটি গাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে এ আগুন লাগে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আগুন নেভানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনের খবর পেয়ে ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। আগুনের কারণ জানা যায়নি।