• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮ ৩ রমজান ১৪৪২

গণপরিবহন চালু হওয়ায়

মেলায় বইপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

image

বইমেলা বলতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি-ভিড় হবে এমনটাই স্বাভাবিক! কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে চিরাচরিত এ চিত্র একেবারে নেই মেলা প্রাঙ্গণে। তাছাড়া লকডাউন চলতে থাকায় একুশে বইমেলায় লোকসমাগম এখনও নগণ্য। তবে গতকাল গণপরিবহন চালু হওয়ায় বইমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এতে নিস্তব্ধ বইমেলা যেন কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। স্টল, প্যাভিলিয়নে দেখা গেছে দর্শনার্থীর আনাগোনা। ব্যস্ততা দেখা গেছে বিক্রয়কর্মীদের মাঝেও। বইপ্রেমীরা স্টল প্যাভিলিয়ন ঘুরে ঘুরে পছন্দের বই কিনছেন।

তবে ক্রেতাদের আনাগোনায় প্রকাশকদের মাঝে একটু স্বস্তি দেখা গেলেও, প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ হতাশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তীব্র গরমে অস্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বইমেলা বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

গতকাল মেলার ২১তম দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই মেলায় এসেছেন এবং বই কিনেছেন। মেলায় আগত এনামুল করিব বলেন, করোনার কারণে মেলা বন্ধ হয়ে যাবে ভেবেছিলাম। যেহেতু মেলা চলছে এবং গণপরিবহন চলছে তাই আজ চলে এলাম বই কিনতে। অনেককেই দেখলাম ব্যাগ বোঝাই করে বই কিনছেন।

এদিন মেলায় তুলনামূলক বেশিসংখ্যক পাঠক এলেও মেলার বেশকিছু স্টল বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। অনেক স্টলে বেচাকেনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন অনেক প্রকাশক। তারা বলছেন সময়টা পরিবর্তন করে দিলে হয়তো মেলায় পাঠকরা আরও বেশি আসতে পারতেন। তবে আগামী শুক্র এবং শনিবার ছুটির দিনগুলোতে আরও বেশি পাঠক আসবেন বলেই প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদত হোসেন বলেন, এমন একটা পরিস্থিতিতে এবার বইমেলা পড়েছে যেটা আমরা কেউই ভাবিনি। একে তো লকডাউন পরিস্থিতি, গণপরিবহন বন্ধ ছিল, তার উপরে মেলা চলছে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত। যদিও গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে তবুও পাঠক যে সময় মেলায় আসেন, আমাদের এখন সেই সময়টিতে মেলা বন্ধ করতে হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি আগামী ছুটির দিনে ভালো কিছু হবে।

এক প্রকাশক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সাধারণত ঢাকার বইরে থেকে তাদের ক্রেতারা আসেন তালিকা ধরে বই কিনতে। ঢাকার বাইরের বইয়ের দোকানগুলোতে এখন সাধারণত নোট-গাইড ছাড়া সৃজনশীল বই বিশেষ রাখা হয় না। সে কারণে বইমেলার একটি বড় ক্রেতা মফস্বলের পাঠকেরা। এবার লকডাউনের কারণে সেই ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এখন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা করার কোন অর্থ নেই। শুধু খরচ বাড়ছে।

ইউনিভার্সাল প্রকাশনীর এক বিক্রয় কর্মী জনান, দুপুর সাড়ে ১২টায় মেলা শুরু হলেও পাঠকরা আসেন ৩টা থেকে থেকে ৫টার মধ্যে। এ অবস্থায় আমরা প্রচ- গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অনুপ্রাণন প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী ইফফাত আরা বলেন, গত দুই দিনের চেয়ে আজ স্টলে কিছু পাঠক এসেছে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কম। দর্শনার্থীরা আশা শুরু করেন বিকেল ৫টার দিকে, কিন্তু মেলা তখন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া লকডাউনের মাঝে আমাদের অনেক কষ্ট করে প্রকাশনীতে আসতে হয়। মেলা ১২টায় শুরু হওয়ায় দুপুরের তীব্র রোদে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। বিকেল থেকে মেলা শুরু হলে আমাদের কষ্ট হতো না।

এদিকে, গতকাল অমর একুশে বইমেলার ২১তম দিনে নতুন বই এসেছে ৬৯টি। এরমধ্যে বিষয়ভিত্তিক বই হলো : গল্প-৮, উপন্যাস-১১, প্রবন্ধ-৩, কবিতা-২৮, গবেষণা-২, ছড়া-৪, জীবনী-৩, মুক্তিযুদ্ধ-২, ভ্রমণ-১, ইতিহাস-২, বঙ্গবন্ধু-১ এবং অন্যান্য-২টি বই।

তাছাড়া উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে- পাঞ্জেরী এনেছে পলাশ মাহবুবের ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ’, অন্যপ্রকাশ এনেছে শিহাব শাহরিয়ারের ‘নিঃসঙ্গ নদী ছায়া’, দাঁড়িকমা এনেছে মাহিন খানের ‘প্রতিবাদ’, জিনিয়াস এনেছে আবদুল মান্নান সরকারের ‘জনক’ (২য় খ-), ড. আহমদ আবদুল্লাহর ‘ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য’, ক্রিয়েটিভ এনেছে সন্দীপন ধরের ‘ভয়’, পুথিনিলয় এনেছে বুলবুল চৌধুরীর ‘বাছাই কিশোর গল্প’, বইপত্র এনেছে শামস রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু নেতা, নেতৃত্ব ও আজকের বাংলাদেশ’, পেন্সিল এনেছে মোহাম্মদ তালুতের ‘নৈঋত’ প্রভৃতি।