• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

মেলায় এখন বই কেনার পালা

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ শেষ হতে আর মাত্র ৫ দিন বাকি। দেখতে দেখতে শেষ সপ্তাহে চলে এসেছে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলায় এখন বিদায় হাতছানি দিচ্ছে। প্রকাশনাগুলোর নতুন বই ইতোমধ্যে চলে এসেছে মেলায়। পাওয়া যাচ্ছে বেশিরভাগ লেখকেরই নতুন বই। এ অবস্থায় শেষ সময়ে পাঠকও আর দেরি না করে কিনে নিচ্ছেন তার পছন্দের বইটি। গতকাল বিকেলে দেখা যায়, হালকা মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে। যারাই আসছেন তারা নতুন বই নিয়েই ফিরছেন। খালি হাতে দর্শনার্থীদের মেলা ত্যাগ করতে তেমন দেখা যাচ্ছে না। পছন্দের লেখকদের নতুন বইগুলোও মিলছে স্টলগুলোতে। তাই এখন আর সময় নষ্ট করতে চাচ্ছেন না পাঠক-দর্শনার্থীরা। গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার উভয় অংশ (বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঘুরে প্রকাশক, বিক্রয়কর্মী ও পাঠক ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রকাশকরা জানান, গ্রন্থমেলার শুরুর দিকে মেলায় দর্শনার্থীরা আসতেন বইয়ের মলাট দেখতে। পছন্দ হলে কেউ কেউ বই কিনতেন। কেউ আসতেন সেলফি তোলার জন্য। তবে এখন দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। এখন মেলা শেষের দিকে। আর তাই মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অধিকাংশই আসছেন শুধুমাত্র বইয়ের টানে। মেলার বিভিন্ন স্টলের একাধিক বিক্রয়কর্মীই জানিয়েছেন, শেষভাগে মেলায় বিক্রি ভালো হচ্ছে। আর প্রতিটি প্রকাশনীই নিয়ে এসেছে তাদের নতুন বই।

সরেজমিন গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, কর্মদিবসে বইমেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও প্রকৃত বইপ্রেমীদের ছিল সরব উপস্থিতি। এদিকে, সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে গতকাল তুলনামুলক কম দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। তবে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে যারা মেলায় এসেছেন তাদের বেশিরভাগই মেলা থেকে বই কিনেছেন। এর আগে মেলা শুরুর দিকে প্রকাশনাগুলোর ক্যাটালগ সংগ্রহে মনযোগী ছিল পাঠক। মেলার দ্বিতীয়ার্ধ থেকে টুকিটাকি করে শুরু বই কেনা। এখন শেষার্ধে প্রকাশনাগুলোও নিজেদের নতুন বইগুলো মেলায় নিয়ে এসেছেন। তাই খুঁজলেই পাওয়া যাচ্ছে পছন্দের বই। গতকাল অন্য প্রকাশ, তাম্রলিপি, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, কাকলী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, পার্ল পাবলিকেশন্স, অবসর প্রকাশন অনন্যা প্রকাশনী, নালন্দা প্রকাশনী, অনিন্দ্য প্রকাশ, শোভা প্রকাশ, প্রথমা প্রকাশন, অনুপম প্রকাশনী, কথা প্রকাশ, আদর্শ প্রকাশনীসহ বড় বড় স্টলগুলোতে প্রচুর বই বিক্রি হয়েছে।

বিকেলে অনন্যা প্রকাশনীর সামনে কথা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আসলে মেলায় প্রথম দিকে আসা হলেও বই তেমন কেনা হয়নি। পছন্দের লেখকের নতুন বইও তখন মেলায় পাওয়া যায়নি। তাই শেষ দিকের জন্যই অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় নতুন সব বই মেলায় পাওয়া যায়। আগে থেকে ঠিক করে রাখা নতুন বই কেনা যায়। তাই এখনই বই কেনার উপযুক্ত সময় বলে মনে করি। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নওশীন তাবাসসুম মুন বলেন, বই কেনার তো এখনই সময়। এর আগে মেলায় আসা হলেও কেনা হয়নি। ঘুরে ঘুরে দেখেছি। তবে আজ বই কেনার জন্যই মেলায় এসেছি।

মেলায় বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে অন্য প্রকাশের বিক্রয়কর্মী টিপু বলেন, আস্তে আস্তে মেলা শেষ হয়ে আসছে। প্রথম দিকে মেলায় শুধু দর্শনার্থী ছিল। তাদের বেশিরভাগই ঘোরাঘুরির জন্য মেলায় আসতেন। অল্প সংখ্যকই তখন বই কিনতেন। তবে এখন মেলা একদমই শেষের দিকে। তাই মেলা যত শেষের দিকে যাচ্ছে, তত আসল বইপ্রেমীদের সংখ্যা বাড়ছে। পার্ল পাবলিকেশন্সের বিক্রয়কর্মী সাজ্জাদ বলেন, মেলা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। মেলার প্রথম দিকে দর্শনার্থীরা এসে শুধু বই দেখত। তবে এখন যারা মেলায় আসছেন, তাদের বেশিরভাগই বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য আশার দিক।

গ্রন্থমেলায় ‘স্যামুয়েলের ডায়েরি’

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে গীতিকার স্যামুয়েল হকের ‘স্যামুয়েলের ডায়েরি’। বইটি প্রকাশ করেছে জি-সিরিজ প্রকাশনী। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন খাদেমুল জাহান। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৬০০ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে বাতিঘর প্রকাশনীর ৪৪৪-৪৫-৪৬ নম্বর স্টলে। বইটি পড়লে বর্তমান প্রজন্ম দর্শন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। যদিও এই বইয়ে লেখকের নিজস্ব কিছু কথা আছে। সেটি গল্পের ছলে লেখা হয়েছে। গল্প পড়তে পড়তে পাঠক কখন দর্শন সম্পর্কে জেনে ফেলবেন, সেটি তারা টেরই পাবেন না।

মেলায় এসেছে ম্যাগডিলিনা মৃ’র ‘গারো লোকগল্প’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ম্যাগডিলিনা মৃ’র ‘গারো লোকগল্প’। বইটি বের করেছে পেন্ডুলাম। বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন আল নোমান। বইয়ের দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১৩৫ টাকা। বইটি পেন্ডুলামের ২৭১ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বই নিয়ে ম্যাগডিলিনা বলেন, গারো জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস আচিক আসং (মেঘালয়ের গারো পাহাড়) থেকে আসাম হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বসবাসকারীদের মুখে মুখে প্রচলিত অসংখ্য লোকগল্প (কলাগাছের বিয়ে, টুনটুনি, ভূত শ্রমিক ইত্যাদি) আছে। বিভিন্ন পশুপাখি, জীবজন্তু নিয়ে প্রচলিত এই লোককল্পগুলোতে রয়েছে পুরাণকথা, ব্যঙ্গকথা, নীতিকথা, ব্রতকথা, রোমান্স, সৃষ্টিতত্ত্ব। তিনি বলেন, বইটিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামে বসবাসকারী গারোদের মধ্যে প্রচলিত ২৩টি লোকগল্প রয়েছে। আগ্রহী পাঠক এই গল্পগুলোর মাধ্যমে গারো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বিশ্বাস, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং লোকাচার সম্পর্কে চমৎকার তথ্য এবং ধারণা পাবেন।