• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

মেলার শেষের দিকে বই কেনার ধুম

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

অমর একুশে গ্রন্থমেলা একদমই শেষের দিকে। আর মাত্র দু’দিন মেলায় থাকবে হৈ-হুল্লোড়, আড্ডা, দল বেঁধে ঘোরাঘুরি। কারণ, দেখতে দেখতে ২৬তম দিন শেষ হল বাঙালির প্রাণের মেলার। আগামী শনিবারই পর্দা নামছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এর। সেই সঙ্গে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে পাঠক ও দর্শনার্থীদের আসা বন্ধ হয়ে যাবে দু’দিন পরই। সে হিসেবে গ্রন্থমেলায় এখন বিদায়ের সুর বাজছে। এবারের বইমেলায় শুরু থেকেই পাঠক সমাগম অনেক ভালো ছিল। মেলা যতো শেষের দিকে এগিয়েছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল বই বিক্রি। একুশে গ্রন্থমেলা এখন একদম শেষের দিকে, তাই মেলায় চলছে বই কেনার ধুম। গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে প্রকাশক, বিক্রয়কর্মী ও পাঠকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। সবার মুখে এখন একটাই কথা ‘আসছে বছর আবার হবে’।

এদিকে, ক্রেতা-পাঠকও গতকাল ছোটাছুটি করেছেন পছন্দের সব স্টলে। কিনেছেন আগে থেকে বাছাই করা জনপ্রিয় সব বই। মেলার শুরুর দিকে যারা ক্যাটালগ দেখে সময় পার করতেন তাদেরকে গতকাল বই কিনে ফিরতে দেখা গেছে। মেলায় এবার ব্যতিক্রমী সব বই নিয়ে হাজির ‘বাতিঘর প্রকাশনী’। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রকাশনার সামনে দেখা হয়ে গেল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম রুবেলের সঙ্গে। তিনি এই প্রকাশনী থেকে কিনেছেন মহিউদ্দিন আহমেদের বই ‘বেলা-অবেলা’। এই বিষয়ে রুবেল সংবাদকে বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন শেষের দিকে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় বের করেছি মেলায় আসার জন্য। শেষের দিকে সবাই মেলায় আসে বই কেনার জন্য। আমিও সেই দলেরই একজন। মহিউদ্দিন আহমেদের বই ‘বেলা-অবেলা’ দেখে খুব পছন্দ হলো। তাই কিনে ফেললাম। বইটি বেস্ট সেলারের অন্যতম। আরও কিছুক্ষণ মেলায় ঘুরব। পছন্দ হলে আরও দুয়েকটি বই কিনব। রাজনৈতিক বই তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে বলে জানান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এবার মেলার পরিসর অনেক বড়। এর ফলে পাঠক ঘুরে ঘুরে নিজেদের পছন্দমতো বই কিনতে পারছেন। সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, মেলায় সবার ভালো বিক্রি হবে না। যাদের বই ভালো, ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে যারা বই প্রকাশ করেছে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হবে। আর যাদের ভালো তথা বাণিজ্যিক বই নেই তাদের অথবা অনেকের ভালো বই আছে কিন্তু খারাপ জায়গায় স্টল পেয়েছে এমন প্রকাশনার বিক্রি হয়তো ভালো হয়নি। সুতরাং প্রত্যাশার জায়গাটা আপেক্ষিক। এটা কারও পূরণ হবে, কারও হবে না। তবে বইমেলায় বিক্রি ভালো হয়েছে, ভালো চলেছে। মেলার ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো ছিল। সামনে হয়তো আর ভালো হতে পারে। সবকিছু বিবেচনায় এবারের মেলাকে পাঠকবান্ধব ও বইবান্ধব মেলা বলা যায়।

অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, এবারের মেলার পরিসর অনেক বড়। আর আমরাও অনেক বড় স্টল পেয়েছি। তাছাড়া এবার আমাদের বইও অনেক। সব মিলিয়ে যা বিক্রি হয়েছে তাতে আমরা খুশি।

একুশে গ্রন্থমেলায় ‘কেউ কেউ একা’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে জনি আহমেদের তৃতীয় মৌলিক উপন্যাস ‘কেউ কেউ একা’। বইটি প্রকাশ করেছে এশিয়া পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ করেছেন অরূপ মান্দি। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা। এশিয়া পাবলিকেশন্সের ৫৫৮-৫৬১ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এই উপন্যাসে লেখক তুলে ধরেছেন কীভাবে একটা মানুষ সবার থেকেও একা জীবনযাপন করে। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, স্ত্রী-সন্তান সব থেকেও কেন এতো একাকিত্বে ভোগেন। বুকের লুকানো ব্যথা নিয়ে কীভাবে দিনের পর দিন অভিনয় করে কাটিয়ে দিতে পারে জীবন। সেসব গভীর দুঃখবোধের গল্প বলা হয়েছে এই উপন্যাসে। প্রধান চরিত্রের মাঝে লজিক এবং অ্যান্টি-লজিক নিয়ে কাজ করার প্রয়াস চালিয়েছেন লেখক। ‘কেউ কেউ একা’ লেখকের চতুর্থ প্রকাশিত গ্রন্থ। এর আগে ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘মরীচিকা’। তার পরে যথাক্রমে ‘বিষাদনগর’, (উপন্যাস), ‘মায়াবী প্রস্থান’ (গল্পগ্রন্থ) ২০১৮ ও ২০১৯ সালের গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থমেলায় সালাহ উদ্দিন শুভ্রর ‘আলোয় অন্ধ শহর’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্রর সায়েন্স ফিকশন ‘আলোয় অন্ধ শহর’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। এর প্রকাশক বৈভব। মেলার ৭১৮ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। নিজের বই নিয়ে সালাউদ্দিন শুভ্র বলেন, বইটিতে দেড়শ বছরের ঢাকাকে পাওয়া যাবে। নিজের শহরকে চিত্রায়িত করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। বইয়ের কাহিনী হলো- ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তি নিজেকে ফিরে পায় দেড়শ বছরের পরের ঢাকায়। তবে অন্য এক ব্যক্তির শরীরে। অদ্ভুত এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, দেড়শ বছর পরের ঢাকার সঙ্গে আমাদের সময়ের এক মানুষের পরিচয় ঘটার বিস্ময়কর ঘটনাবলী নিয়ে রচিত উপন্যাসটি। এটি লেখকের দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ হলেও প্রথম সায়েন্স ফিকশন। এর আগে রহস্যধর্মী উপন্যাস ‘গায়ে গায়ে জ¦র’ লিখেছিলেন ২০১৪ সালে। ২০১৯ সালের গ্রন্থমেলায় আসে তার দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘মেয়েদের এমন হয়’। প্রথম ২০১১ সালে তিনি গল্পগ্রন্থ ‘মানবসঙ্গবিরল’ দিয়ে লেখালেখির জগতে পা রাখেন।