• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জিলকদ ১৪৪১

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন, আমন্ত্রণ পাননি ভূমিদাতারা

ফলকে নেই স্বীকৃতি

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরো দেশের মতো সুনামগঞ্জও ছিল উত্তাল। ১১ মে পাকিন্তানি সেনারা আক্রমণ করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে। তরুণদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্বুদ্ধ করার অপরাধে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় গয়ানাথ তালুকদার ওরফে তারানাথ তালুকদারকে। আর তখন থেকেই তার দুই ছেলে গোপেন্দ্র তালুকদার ও অতুল তালুকদার সেই স্মৃতি ভুলতে পারছিলেন না। তাই নিঃস্বার্থভাবে পৈতৃক ভূমি দান করেছেন ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবনের জন্য। এভাবে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভূমি দান করে এলেও তাদের প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা নেই সংশ্লিষ্টদের। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবন উদ্বোধন করা হলেও এতে ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা বা সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি। অবাক বিষয় হলো, যে পরিবারটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ভূমি দান করল, ওই পরিবারের কাউকেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি ভবনের কোথাও ভূমিদাতা হিসেবে তাদের কারও নামও নেই। অনুষ্ঠান ও ভবন উদ্বোধনে তদারক করেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোনো কমিটি না থাকায় বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদাধিকার বলে ‘কমান্ডার’ বা প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। ওইদিন ভবনটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টিকে দুঃখজনক মন্তব্য করে সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক) মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, দানশীল পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।

ভূমিদাতা গোপেন্দ্র তালুকদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে আমরা শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেসক্লাবকে মোট ২৪ শতক জমি দান করেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে জমি দান করার সময় আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, জমির দাতা হিসেবে আমার শহীদ বাবার নাম উল্লেখ রাখতে। কিন্তু তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান জানিয়েছেন, মৃত মানুষ ভূমির দাতা হতে পারবে না ও মৃত মানুষের নাম ভবনে লেখা যাবে না। তখন বলা হয়েছিল, ভূমিদাতা হিসেবে আমাদের দুই ভাইয়ের নাম লেখা থাকবে। কিন্তু উদ্বোধন হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ভূমিদাতা হিসেবে আমাদের নাম মুদ্রিত করা হয়নি। এমনকি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

গোপেন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘ভবনে ভূমিদাতা হিসেবে আমাদের নাম না রাখার বিষয়টি জানার পর উদ্বোধনের আগেই আমি মন্ত্রীকে অবগত করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, আমাদের নাম লেখা হবে। তিনি আমাকে অনুষ্ঠানে থাকার জন্যও বলেছিলেন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ভূমিদাতা হিসেবে তাদের নাম অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। ভূমিদাতা গোপেন্দ্র আমার পরিচিত। আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি ফলক উন্মোচনে আমার নামের পাশে তার নামীয় ফলক বসানোর জন্য।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফি উল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানে ভূমিদাতাসহ অন্যদের আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব ছিল সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমানের। মন্ত্রী বলেছেন, ওনার উদ্বোধনী ফলকের নিচে ভূমিদাতাদের নাম থাকবে। খুব শিঘ্রই ভূমিদাতাদের নাম লাগানো হবে।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান বলেন, আমরা এখন কমান্ডের দায়িত্বে নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডের দায়িত্বে। তবে আমারই উচিত ছিল ভূমিদাতাকে আমন্ত্রণ জানানো ও ভবনে তাদের নাম লেখানো। কারণ আমি অনুরোধ করে এই জমিটুকু এনেছিলাম। বুধবার এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার ও ইউএনও আমাকে ভবন উদ্বোধনের বিষয়টি জানিয়েছেন। ফলক উদ্বোধনের সময় তাদের নাম না থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কীভাবে ফলক তৈরি করা হয়েছে ও কোথায় ফলক লাগানো, তা আমরা আগে জানতাম না। এলজিইডি থেকে আমাদের জানায়নি।

এলজিইডির দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শামীম হাসান বলেন, এই ভবনের কাজ এক বছর আগেই শেষ হয়েছে। উদ্বোধনী ফলক তৈরির জন্য যে ধরনের নির্দেশনা ছিল, আমরা সেভাবে তৈরি করেছি।