• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

বরগুনায় রিফাত হত্যা

মিন্নির জামিন বাতিলের শুনানি ফের পেছাল

সংবাদ :
  • চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি। এদিনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করলেও আগামী রোবাবার শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ জেরা। এদিকে আদালতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিলের শুনানির সময় বাড়ানোর আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছেন।

আদালতে উপস্থিত উভয়পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির আদালতে তার তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে বক্তব্য রাখতে জেলা ও দায়ারা জজ আদালতের সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান গত মঙ্গলবার। তিনি তার তদন্ত প্রতিবেদনের পক্ষে আদালতে ব্যাখ্যা উপস্থাপনের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যুক্তি দেন। তার উপস্থাপিত বিষয়ের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল রিফাত হত্যার সময় বিভিন্নভাবে সংগৃহীত আসামিদের হত্যা তৎপরতার ভিডিও, বিভিন্ন আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদন ও আসামিদের মধ্যে যোগাযোগের সময় ফোনকল বিশ্লেষণ সম্পর্কে। তদন্ত কর্মকর্তা তার উপস্থাপনে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের জন্য মূলত বেশিরভাগ দায়ী করেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। তাকে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যেহেতু মিন্নি নয়নবন্ডের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন করে পুনরায় রিফাত শরীফকে বিয়ে করে। মিন্নিকে নিয়ে রিফাত শরীফ ও নয়নবন্ডের দ্বন্দ্বই রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনাকারী মিন্নি। এ কারণে আদালতে উপস্থাপিত ভিডিওতে হত্যাকাণ্ড চলার সময় মিন্নির ভূমিকাকে নাটক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ফোন যোগাযোগকে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয় গুরুত্ব দেয়া হযেছে। এ বিষয় ফরেনসিক প্রতিবেদন ও তার বিশেষজ্ঞদের সাক্ষী মানা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরকে রোববার থেকে মোকাবিলা করতে হবে আসামিপক্ষের জেরা। তাকে পূর্ণাঙ্গ জেরা করবেন ২৪ জন আসামির প্রায় ২০ জন আইনজীবী। এর মধ্যে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবীই বেশি। তার আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম, কমলকান্তি দাস, অন্য আসামির আইনজীবী মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, বরগুনা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাকে চ্যালেঞ্জ করবেন। প্রত্যেক আসামির পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার জন্য অনেক সময় লেগে যেতে পারে। আসামিপক্ষ তদন্ত কর্মকর্তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আদালতে প্রদর্শন করবেন পাল্টা ভিডিও। তারা প্রমাণ করতে চাইবেন নিজে নিজ আসামিকে নির্দোষ প্রমাণের। মাহাবুবুল বারি আসলাম জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে সড়যন্ত্র মূলকভাবে। সারা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আহত রিফাত শরীফকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে নিতে। তাদের দাবি, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি কোন প্রকারই জড়িত নয়।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা যখন জবান বন্দী প্রদান করেন, তখন হাজতে থাকা ৮ আসামি ও জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে উপস্থিত ছিল। আসামি মুছা এখনও পলাতক রয়েছে। শিশু আদালতে সাক্ষ্য হয়নি। মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন মিন্নি দলবল নিয়ে হোন্ডায় করে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মানিত সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এ বিষয়ে আসামিপক্ষের ব্যাখ্যা ও তদন্তের পর শুনানির অপেক্ষা ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত মঞ্জুর করেন। ফলে মিন্নির জামিন বাতিলের শুনানি তৃতীয় বারের মতো পিছিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো সকাল সাড়ে ১০টায় এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষ্য বরগুনা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির জবানবন্দি শুরু করেন। বেলা ৪টা পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের মূল ৭ জন আইনজীবী তাকে জেরা করবেন রোববার। তাদের সহায়তা করতে পারে আরও প্রায় ১২/১৩ জন আইনজীবী।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় তিনি তদন্ত করে যা পেয়েছেন তা আদালতে বর্ণনা করেছেন। একটি বিচারাধীন মামলায় এর বেশি কিছু বলার নেই। আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম আরও বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ জেরা করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তারা রোববার থেকে আবার জেরা শুরু করবেন। এছাড়া মিন্নির জামিন বাতিল আবেদন শুনানির জন্য আদালতে সময় চাওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষ রোববার তাকে জেরা শুরু করবেন। আসামিপক্ষের জেরা শেষ হলে যে সব সাক্ষ্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা আসামিদের শোনানো হবে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করবে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করবেন।