• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ ৪ রমজান ১৪৪২

মাসের প্রথম ছুটির দু’দিন বইমেলায় উপচেপড়া ভিড়

সংবাদ :
  • তারেক আজিজ

| ঢাকা , রোববার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

শুক্র ও শনিবার ছিল বইমেলার সপ্তম এবং অষ্টম দিন। এই দু’দিনে লেখক-পাঠকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল অমর একুশে বইমেলা। এ দু’দিন মেলার প্রথম ভাগ ছিল এবারের গ্রন্থমেলার শিশুপ্রহর। বেলা ১১টায় মেলা দ্বার খুলতেই দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। মধ্য দুপুরে সেই ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও বিকাল গড়াতে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ছিল না তিলধারণের ঠাঁই। পছন্দের গল্প, উপন্যাস, কবিতা বা প্রবন্ধের বই হাতে ঘরে ফিরেছেন অনেকেই। ছোটদের বিজ্ঞানের খেলা, আইকিউ মাস্টার, মজার মজার ধাঁধা, টোনাটুনির ম্যাজিক, বিজ্ঞানের বিস্ময় ও আবিষ্কার- স্টলে স্টলে সাজানো এ ধরনের মজাদার বই বেশ আকৃষ্ট করে খুদে পাঠকদের। গত কয়েক বছর ধরেই মেলা কর্তৃপক্ষ শিশুদের আনন্দ দিতে প্রতি শুক্র-শনিবার সকালে সুযোগ করে দেন বিটিভির শিশুতোষবিষয়ক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর লাইভ শো’ দেখার। শুক্র-শনিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। মেলার গেট খোলার কিছুক্ষণ পরই শিশুচত্বরে একে একে হাজির হয় সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্র টুকটুকি, হালুম, শিকু, ইকরি। বেজে ওঠে ‘চলছে গাড়ি সিসিমপুরে, চলছে গাড়ি সিসিমপুরে’। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা প্রিয় সিসিমপুর সরাসরি দেখার সুযোগ কে না হাত ছাড়া করতে চায়। তাই তো মেলাপ্রাঙ্গণের শিশুরা বাবা-মার সঙ্গে ছুটে আসে শিশুচত্বর। সিসিমপুরের চরিত্রগুলোর সঙ্গে নেচে গেয়ে মেলাপ্রাঙ্গণমুখর করে তোলে শিশুপাঠকরা। সঙ্গে চলে ছবি তোলা।

রাকিব নামের চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী এসেছে তার মায়ের সঙ্গে। সে জানায়, মেলায় ঘুরতে খুব ভালো লাগে তার। সব থেকে বেশি ভালো লাগে সিসিমপুরের টুকটুকি, হালুম, শিকু, ইকরির কথা আর অভিনয়। সে পাঁচটি বই কিনেছে। এগুলো বাসায় গিয়ে পড়বে। শেষ বিকেলে বইমেলায় আসেন লেখক অধ্যাপক জাফর ইকবাল। তাকে পেয়ে ভক্তের দল ছেঁকে ধরে সেলফির আবদারে। তিনিও সবার আবদার রক্ষা করেন। প্রকাশকরাও বলছেন, গত পাঁচ দিনের চেয়ে শুক্র ও শনিবার তাদের বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ। গতকাল নতুন বই এসেছে ২০১টি।

শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ক-শাখায় ১৩০ জন এবং খ-শাখায় ৭০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজীনা ওয়ালী লীনা, ফয়জুল আলম পাপ্পু এবং ফয়জুল্লাহ সাঈদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা

অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় গ্রন্থমেলার আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ক-শাখায় ৭৯ জন এবং খণ্ডশাখায় ৮৮ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এএসএম মহিউজ্জামান চৌধুরী (ময়না), ইয়াকুব আলী খান এবং চন্দনা মজুমদার।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এম আবদুল আলীম রচিত বঙ্গবন্ধু ও ভাষা-আন্দোলন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিভা মুৎসুদ্দি। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন এম আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাঙালি জাতির জীবন ও ইতিহাসে ভাষা-আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছে। বাঙালি জাতির এই ভাষাভিত্তিক আন্দোলনে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ অবদান আমরা লক্ষ্য করি। ১৯৪৭ সালে ভাষা-আন্দোলনের সূচনা পর্ব এবং পরবর্তী সময়ে আইন সভার সদস্য হিসেবে এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু আত্মনিয়োগ করেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি মাতৃভাষা ‘বাংলা’র প্রতি তার মমত্ববোধ ও ভালোবাসা। আমৃত্যু তিনি বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশে সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করে গেছেন এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাভাষীদের দাবির কথা বলে গেছেন।

আলোচক বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৫২ সালে চীনের শান্তি সম্মেলন এবং ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলাভাষায় বক্তৃতা প্রদান মাতৃভাষার প্রতি তার অদম্য ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা হলেও আজও আমরা সর্বস্তরে বাংলাভাষার প্রচলন করতে পারিনি। মুজিব জন্মশতবর্ষে আমাদের অঙ্গীকার থাকবে বাংলাভাষাকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত করা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করলে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা পরিষ্কার হয়ে যায়। আমার এ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হলো একজন নিরপেক্ষ গবেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান মানুষের সামনে তুলে ধরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর অবদানকে নানাভাবে বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে বারবার। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে নিজস্ব মতাদর্শ ও ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে দেখবার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক তথ্য ও ইতিহাস তুলে ধরতে এম আবদুল আলীম রচিত বঙ্গবন্ধু ও ভাষা-আন্দোলন গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি অঞ্জন সাহা, আতাহার খান, টোকন ঠাকুর এবং রাসেল আশেকী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল খোরশেদ, মাসুদুজ্জামান এবং মীর মাসরুর জামান রনি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় গোলাম কুদ্দুসের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা’। সংগীত পরিবেশন করেন আবুবকর সিদ্দিক, অণিমা মুক্তি গোমেজ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস এবং মো. মুরাদ হোসেন। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন প্রিয়ব্রত চৌধুরী (তবলা), আশুতোষ শীল (দোতারা), মো. হাসান আলী (বাঁশি) এবং ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড)।

শুক্রবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শামীম রেজা, দীপু মাহমুদ, শিহাব শাহরিয়ার এবং সাদিয়া মাহজাবীন।

আজকের অনুষ্ঠান

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৮ম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে মিল্টন বিশ্বাস রচিত উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রশান্ত মৃধা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন পাপড়ি রহমান ও মোজাফ্ফর হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।