• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

মাদক মামলার জন্য সব জেলায় বিশেষ আদালত হবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সব জেলা ও মহানগরে বিশেষ আদালত গঠন করবে সরকার। এর আগে এ ধরনের মামলার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। বিচারক স্বল্পতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।

বিশেষ আদালত গঠনের বিধানসহ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন’ এ ৫৫টি ধারার মধ্যে ২২টি ধারার সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বিশেষ আদালত গঠন হলে দুই বছর পর্যন্ত সাজার ধারার মামলাগুলো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করতে পারবেন। তবে সর্বোচ্চ সাজার ধারায় মামলার বিচার করবেন দায়রা জজ।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করবে এবং প্রত্যেক ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হবে। কোন জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকলে ওই জেলার দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন।’

ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করবেন জানিয়ে সচিব বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে অদ্যাবধি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা জেলা বা দায়রা জজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অসংখ্য মাদক অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হলেও তা বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, মামলার সংখ্যা বাড়ছে। প্রকৃত আসামিকে সাজা দেয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আইন সংশোধন করা হলে এই আইনের অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে বিচার হবে উল্লেখ করে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ তাদের এখতিয়ার সম্পন্ন এলাকার জন্য কেবল মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচারের জন্য এক বা একাধিক আদালত নির্দিষ্ট করতে পারবেন। ফলে মাদক অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।’

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবার উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮’ পাস হয়। এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদার বলেন, ‘আগে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করার কথা ছিল। কিন্তু বিচারক স্বল্পতা ও প্রশাসনিক কারণে সেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা সম্ভব হয়নি। এখন এক লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মামলা আছে। মাদকের জন্য এখতিয়ার সম্পন্ন বিশেষ আদালত গঠন করা হবে। যে আদালতের যতটুকু ক্ষমতা সে আদালত ততটুকু বিচার করবেন। ক্ষমতাটুকু জেলা জজের কাছে দিয়ে দিচ্ছি, তিনি তার প্রয়োজন অনুযায়ী আদালত গঠন করে দেবেন। শুধু মাদকের জন্য জেলা ও দায়রা জজ কোর্টগুলোকে ডেডিকেটেড করে দেবেন। প্রত্যেক জেলা ও মহানগরে স্পেশাল এখতিয়ার সম্পন্ন স্পেশাল আদালত হবে। ট্রাইব্যুনাল থেকে আমরা সরে আসছি।’

কী ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা গেল না-এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য যে পরিমাণ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রয়োজন তা নেই। মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদকের মামলাগুলো দ্রুত বিচারের আওতায় এনে অপরাধীকে ধরা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, ছয় মাসের জেল হবে সেটাও জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিচারে যাচ্ছে। তাতে হত্যা মামলার মতো মামলাগুলোর বিচার বিলম্বিত হতে পারে।’

আপিলের ক্ষেত্রে জটিলতাও এখানে বিবেচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তরুণ কান্তি শিকদার বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে কারও ছয় মাসের জেল বা জরিমানা হলে তাকেও আপিলের জন্য হাইকোর্টে যেতে হতো। পঞ্চগড় বা টেকনাফের আসামিকেও আপিল করতে ঢাকায় যেতে হতো। এসব প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় এনে সরকার চিন্তা করেছে, স্পেশাল কোর্ট হলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিপক্ষে জজ কোর্টে আপিল করা যাবে। ভূমি ট্রাইব্যুনালে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন, আমরা সেটাও মাথায় রেখেছি।’

এছাড়াও মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আইন-২০২০’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই আইনের সফল প্রয়োগে পর্যটন শিল্প বিকাশ, বেকারত্ব দূর, আয় বৃদ্ধি হবে। আইনের বলে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হবেন একজন সচিব পদের কর্মকর্তা।