• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বাণিজ্যিক অঞ্চল

অগ্রগতি পরিদর্শন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংবাদ :
  • জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এমপি। গতকাল দুপুরে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তিনি মাতারবাড়ি পৌঁছান। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, এাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বন কর্মকর্তা ও কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কুমার দাশ।

জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক পরিপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল। কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট সাড়ে ৩ হাজার একর ভূমির উপর গড়ে উঠছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাশাপাশি ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গভীর সমুদ্র বন্দর। সেই সঙ্গে থাকবে অন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। কয়েক বছর আগেও পুরো এলাকা ছিল অনেকটা পরিত্যক্ত চরাঞ্চল এবং জলাভূমি। আবার কোথাও ছিল সাগরের অংশ। তবে বিশাল এ এলাকা নিয়ে সরকারের মহা পরিকল্পনায় পাল্টে দিয়েছে পুরো মহেশখালীর চিত্র। এজন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। কোন রকম জটিলতা ছাড়াই এগিয়ে চলছে এ মেগা প্রকল্পের কাজ। ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নতুন একটি নৌ পথও তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা সিঙ্গাপুরের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে এই বাণিজ্যিক জোন। ব্যাপক উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রকল্পের কারণে অনগ্রসর এই এলাকায় গত দু’বছরে সব ধরনের ভূমির দাম একশ’ শতাংশ হারে বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্প পরিদর্শনে এসে বলেন, আমরা বাস্তব সিঙ্গাপুর দেখতে চাই। আমরা যেটার কথা বলি সেটাই যেনো এই মাতারবাড়ি হতে যাচ্ছে। মহেশখালীর মাতারবাড়ি এবং ধলঘাট অংশে সাগরের বিশেষভাবে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভূমির কাঠামো। চলছে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কাজ। মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণের জন্য সাগর থেকে তোলা হয় বালি। আর তাতেই ৩৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাকআপ হিসেবে গড়ে উঠছে আরও অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার নানা প্রকল্প। সে সঙ্গে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হচ্ছে নতুন কয়েকটি নান্দনিক সড়ক। এদিকে বিশাল এই মেগা প্রকল্পে কর্মরত রয়েছে চীন ও জাপানের অন্তত ৬শ’ প্রকৌশলী এবং কর্মচারী। তাই পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কান্তি দাশ বলেন, নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সব সময় সজাগ রয়েছি।

এদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মাতারবাড়ীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডনিরাল এম আশরাফুল হক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ প্রমুখ।