• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলকদ ১৪৩৯

মহিলা সমিতিতে বৈশাখী নাট্যোৎসব

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

image

গতকাল মহিলা সমিতিতে প্রদীপ জ্বেলে বৈশাখী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করা হয় -সংবাদ

পহেলা বৈশাখ বরণের রং আর উৎসবের চিহ্ন এখনও লেগে আছে যেন। কাটেনি আয়োজনের আমেজও। নতুন বছর আর পহেলা বৈশাখ বরণের উৎসবের বর্ণিল সেই রঙ আমেজকে আরেকটু রাঙাতে শুরু হলো ‘বৈশাখী নাট্যোৎসব’। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আয়োজনে গতকাল বৈশাখের তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয়েছে এই নাট্যোৎসব।

এ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি’র নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী আয়োজন। এই আয়োজনে প্রদীপ প্রজ্বলন করে উৎসব উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যোৎসব কমিটির আহ্বায়ক রামেন্দু মজুমদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ফেডারেশানের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী। প্রদীপ প্রজ্বলনে অংশ নেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ ও মহিলা সমিতির নির্বাহী সদস্য নীপা সারোয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এই মহিলা সমিতির মঞ্চেই বাংলাদেশের গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা শুরু হয়েছিল। যখন আমরা শুরু করি, তখন এটিই ছিল একমাত্র মঞ্চ। সংস্কারের কারণে দীর্ঘদিন এই মঞ্চটি বন্ধ ছিল। তাই এর দর্শক হারিয়েছে। এ ধরনের আয়োজন দর্শক ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। সে সঙ্গে এ মঞ্চের ভাড়া রেহাতি হারে দিতে পুনরায় সরকার ভুর্তুকি দিবে বলে আশ্বাস দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, মহিলা সমিতি মানেই আমাদের শিহরণ। গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা এবং বিকাশে এ মঞ্চের ভূমিকা অপরিসীম।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় আরণ্যক নাট্যদলের দর্শকনন্দিত নাটক ‘রাঢাঙ’। এ নাটকটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন মামনুর রশিদ। সাঁওতাল বিদ্রোহের কাহিনীকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। অধিকার আদায় করতে গিয়ে শোষণ আর অত্যাচারের শিকারের হতে হয় তাদের। বসতভিটা দখল করে নেয় সমাজের প্রভাবশালীরা। সাঁওতালদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালানো হয়। লেলিয়ে দেয়া হয় পুলিশকে। যখন তাদের ঘামে ফলানো ফসল কেটে নিয়ে যায় তখন তারা ফেটে পড়ে বিদ্রোহে। সাঁওতাল যুবক আলফ্রেড সরেনের নেতৃত্বে হাতেম ও গদাইয়ের সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে লড়াই বাধে। সামান্য তীর-ধনুক দিয়ে ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনীর সঙ্গে পেরে ওঠে না সাঁওতালরা। লড়াইয়ে করুণ পরাজয় ঘটে সাঁওতালদের। নিহত হয় তাদেও নেতা আলফ্রেড সরেন। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, তমালিকা কর্মকার, শামীম জামান, জয়রাজ, শামীমা শওকত লাভলী, আমানুল হক হেলাল, হাসিম মাসুদ, আরিফ হোসেন আপেল, সাজ্জাদ সাজু প্রমুখ।

আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে নাট্যদল দেশ নাটকের প্রযোজনা নিত্যপুরাণ। কাল তৃতীয় মঞ্চস্থ হবে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের নাটক ‘ঘর জামাই’। বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘মেরাজ ফকিরের মা’। এছাড়া উৎসবের বাকি দিনগুলোয় ধারাবাহিকভাবে মঞ্চস্থ হবে ঢাকা থিয়েটারের ‘ধাবমান’, লোক নাট্যদলের (সিদ্ধেশ্বরী) ‘কঞ্জুস’, পদাতিক নাট্য সংসদের (টিএসসি) ‘গুনজান বিবির পালা’, বটতলার নাটক ‘ক্রাচের কর্নেল’, আগন্তুক মঞ্চস্থ করবে ‘ধলেশ্বরী অপেরা’, থিয়েটার আর্ট ইউনিট মঞ্চস্থ করবে ‘গোলাপজান’, ঢাকা পদাতিক মঞ্চস্থ করবে ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’, প্রাচ্যনাট পরিবেশন করবে ‘সার্কাস সার্কাস’, প্রাঙ্গণেমোর মঞ্চস্থ করবে ‘কনডেম্ড সেল’, নাটগরিক নাট্যাঙ্গন উপস্থাপন করবে ‘ক্রীতদাসের হাসি’ এবং ৩০ এপ্রিল সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন নাটক ‘ওপেন কাপল’।

আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে পক্ষকালব্যাপী এই বৈশাখী নাট্যোৎসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায় উৎসবের সহযোগী বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।