• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

আসন শূন্য নেই

মতিঝিল আইডিয়ালে দু’হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি তৎপরতা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০১৮

কোন আসন শূন্য না থাকলেও রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে দুই হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছে স্কুলটির গভর্নিং বডির একটি অংশ। তবে অবৈধ এই ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে গভর্নিং বডি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছে। একটি পক্ষ্য যেকোন মূল্যে নিয়মবহির্ভূত ভর্তি করানোর পক্ষে। এই গ্রুপে রয়েছেন সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা ও জামায়াতে ইসলাম সমর্থক দুই সদস্য। কিন্তু গভর্নিং বডির সভাপতি, একজন সদস্য, অধ্যক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি অবৈধ ভর্তি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গভর্নিং বডির এক সদস্যের ‘কমপক্ষে এক হাজার ভর্তি চাই’ এমন ঘোষণায় প্রতিবাদ শুরু করেছেন অভিভাবকরা। গভর্নিং বডির যেসব সদস্য অবৈধ ভর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্য ও মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু সংবাদকে বলেন, ‘ভর্তির জন্য হাজার হাজার তদবির রয়েছে। চাপও রয়েছে। ভিআইপি তদবিরও আছেন অনেক। আবার দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রমে বাধা না দিলেও আমাদের স্কুলে বাঁধা দিচ্ছে। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। এ বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যে আমরা মিটিংয়ে বসব।’

আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রথম শ্রেণীতে সব শাখায় মোট আসন ছিল ৮০০। ইতোমধ্যেই লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন শিশুরা। ফলে এখন একটি আসনও খালি নেই। এছাড়াও এবার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে, দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপরও ভর্তি বাণিজ্য করতে মরিয়া একটি পক্ষ। এই পক্ষের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভর্তির জন্য প্রভাবশালীদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা জমা করেছেন। একজন সদস্যই এক হাজার ভর্তি করাতে চান বলে চাপ দিয়েছেন। অবৈধ ভর্তির জন্য যে তদ্বির তার সংখ্যা অন্তত দুই হাজার।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সরকারের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম ছাড়াও গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অবৈধভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে নারাজ। তারা সরকারের নীতিমালার বাইরে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে রাজি নন। তারা যেকোন মূল্যে স্কুলের পাঠদানের মান বাড়াতে চান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গভর্নিং বডির সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার সংবাদকে বলেন, ‘আমি সরকারের ভর্তি নীতিমালা অনুসরণের পক্ষে। নীতিমালার মধ্যে থেকে যা করার তা করতে চাই। নীতিমালা অনুসারে যদি সামান্য কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায় কেবল সেটুকুই করা হবে। তবে ভর্তির নামে বাণিজ্য করার সুযোগ নেই। স্কুলের সুনাম নষ্ট করার সুযোগ নেই।’

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বলেন, ‘ভর্তির চাপ তো আছেন। কি অবস্থায় যে আছি আমরাই জানি।