• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে শূন্যতার সৃষ্টি হলো

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা এবং প্রজ্ঞায় মঈন উদ্দিন খান বাদল শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য তার সেই বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর আমরা শুনতে পাব না। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো। গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের ৫ম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ একাংশ) সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে বেহেশত নসিব করুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাদল সবসময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এবং শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। জাতীয় সংসদে তিনি যথন বক্তব্য দিতেন সেই বক্তব্য প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি দাগ কেটে যেত এবং অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবেই তিনি কথা বলতেন। শেখ হাসিনা বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি (বাদল) সব সময় সক্রিয় ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে, রাজপথে এবং এই সংসদে তার (বাদলের) সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি এমনকি সেই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে নিয়ে ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ-প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার (বাদলের) সক্রিয় ভূমিকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। ১৪ দলীয় জোট গঠনেও তার অবদান ছিল।

অসুস্থ বাদলের স্বাস্থের খোঁজ নিতে তার এবং তার স্ত্রীর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে সকালে যখন খবরটা পেলাম (মৃত্যু সংবাদ) এটা সত্যিই একটা বিরাট ধাক্কা লেগেছিল। আমি ভাবতেই পারিনি আজকে তিনি এভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। সংসদে অধিবেশন শুরু হচ্ছে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে সংসদে আসবেন, এটাই বাদলের মনে ছিল। বাদলের স্ত্রীও তাকে (প্রধানমন্ত্রী) এ কথা জানান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। মরহুমের লাশ ভারত থেকে দেশে আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের হাইকমিশন থেকে একজন কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠাবার ব্যবস্থা করেছি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আক্ষেপ করে বলেন, আমরা চলার পথে অনেক আপনজনকে হারিয়ে ফেলছি। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে। কারণ একদিন যেমন আমাদের জন্ম হয় তেমনি একদিন মৃত্যুর পথও বেছে নিতে হয়। এটাই হচ্ছে সত্য। যদিও এই সত্যটা মেনে নেয়া কঠিন। কিন্তু আমাদের তা মানতেই হয়।