• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

ভবদহে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

অবিলম্বে টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে অবিলম্বে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারাধার প্রকল্প) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তিনটি সংগঠন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আবারও এ অঞ্চল স্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটি, হরি রিভার বেসিন পানি কমিটি ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটি। তিন কমিটির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে টিআরএমসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক বাবুল। তিনি জানান, ভবদহ অঞ্চলের যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৫ শতাধিক গ্রামে ২০ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এই অঞ্চলের শ্রী, হরি, টেকা, মুক্তেশ্বরী, ভদ্রা ও হরিহর নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ ছিল।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভবদহ এলাকায় টিআরএম বাস্তবায়িত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিনের স্থায়ী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু গত ৭/৮ বছর ধরে টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ আবারও স্থায়ী জলাবদ্ধতার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে প্রথম হরি নদীর অববাহিকায় বিল ভায়নার টিআরএম প্রকল্প চালু হয়। এরপর ২০০২ সালে টেকা-মুক্তেশ্বরী অববাহিকায় বিল কেদারিয়ায় এবং ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত হরি অববাহিকায় বিল খুকশিয়াতে টিআরএম বাস্তবায়িত হয়। এই টিআরএম বাস্তবায়নের ফলে ১৬/১৭ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়।

কিন্তু ২০১২ সালে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় একটি অংশের বাধার মুখে তা থমকে যায়। গত ৮ বছর ধরে টিআরএম আটকে থাকায় এ অঞ্চলের নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে নদী খনন করে জলাবদ্ধতা প্রশমনের চেষ্টা হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই এখানে টিআরএম চালু না হলে এলাকাবাসীর জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

নেতারা উল্লেখ করেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য ২০১৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। যাতে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের প্রকল্প ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ওই প্রকল্প থেকে টিআরএম বাদ দেয়া হয়। তবে গত ২ জানুয়ারি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তারা আবারও টিআরএম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অবিলম্বে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে হরি, টেকা, মুক্তেশ্বরী নদী খনন করতে হবে এবং আমডাঙ্গা রোজীপুর খাল খনন করতে হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এই তিন দাবি বাস্তবায়ন করা গেলে ভবদহ এলাকার মানুষকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, হরি রিভার বেসিন পানি কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান, ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখর চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব বিষ্ণুপদ দত্ত, ইউপি চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, নজমুস সা’দাত, বিকাশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।