• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

ব্যাংকগুলো রীতিমতো ডাকাতি করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯

ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতের সুদের পার্থক্যে রীতিমতো ডাকাতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। টিপু মুনশি বলেন, যে টাকা তারা (ব্যাংক) সুদ দেন জনগণকে এবং যে টাকা তারা সুদ নেনÑ এ ডিফারেন্সটি পৃথিবীর কোথাও ২ শতাংশ বা ৩ শতাংশের বেশি নয়। বাংলাদেশই একমাত্রÑ যেখানে ৫ শতাংশের উপরে এই ডিফারেন্স। এটি রীতিমতো ডাকাতি। ব্যাংক ঋণে উচ্চসুদ হার নিয়ে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। তারা বলছেন, এতে বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে বলেন। তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও ব্যাংকগুলো তা মানছে না।

মানুষের ডিপোজিটের এগেইনিস্টে কত টাকা তারা পে করছেন আর কত টাকা নিচ্ছেনÑ এটি একটি সিস্টেমে আনার দরকার। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হোক। সুদের হার কমলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হলে এতে সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘ভোক্তা অধিকার শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে বক্তব্য রাখেন টিপু মুনশি। পণ্য কেনার আগে মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমি যা কিনছি, ওই বিষয়ে আমার জানতে হবে। আমি যা কিনছি, ওই পণ্যের দাম কত এবং তা মেইনটেন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, ব্যবসার দিকে যেমন লক্ষ্য রাখতে হবে, তেমনি ভোক্তাদের অধিকারও সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ ভালো না থাকলে ভোক্তাদের কেনার সামর্থ্য থাকবে না। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল থাকতে হবে। আমার যদি একটি টাকাও না থাকে, তা হলে আমি কীভাবে কিনব? তাই মানুষের আয় আমাদের বাড়াতে হবেÑ যাতে তাদের কেনার সামর্থ্য বাড়ে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে ব্যাংকে যারা টাকা জমা করেন, তারা সুফল পাচ্ছেন না। আবার ব্যাংকগুলো বেশি হারে ভোক্তাদের কাছ থেকে সুদ আদায় করে। এ বৈষম্য দূর করতে হবে। ভোক্তাদের স্বার্থে নতুন যেসব আইন প্রণয়ন হয়েছে, সেগুলো কার্যকরে যেসব প্রতিষ্ঠানকে সরকার দায়িত্ব দিয়েছেÑ সেগুলো শক্তিশালী নয় বলে দাবি করেন সাবেক এই সচিব। ভোক্তাদের ‘পকেট কাটা’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জাতীয় বাজেটে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিতের আহ্বানও জানান।

খাদ্যপণ্যে ভেজালের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে একটি বেগুনও পাওয়া যাবে না যে, এতে ফরমালিন বা কীটনাশক দেয়া হয়নি। এ সমস্যা দূর করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, কতিপয় ব্যবসায়ী আছেÑ যারা এমন কাজ করছে। তা মানুষকে হত্যা করার মতো। এ জায়গায় আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিফুল ইসলাম লস্কর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাবের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেইনও বক্তব্য রাখেন।