• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ব্যবস্থা নেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শিল্পের বহুমুখীকরণে গুরুত্বারোপ

| ঢাকা , সোমবার, ০১ এপ্রিল ২০১৯

image

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিল্পমেলা উদ্বোধন শেষে স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিল্পের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দেশ-বিদেশে বাজার সৃষ্টির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাসস।

এসময় সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের পরও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কেন কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জন্য কিছু কিছু ব্যাংক মালিকের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্পকে বহুমুখী করতে হবে। শিল্পোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে দেশে এবং বিদেশে বাজার সৃষ্টি করতে হবে।’

শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ‘জাতীয় শিল্প মেলা-২০১৯’ এর উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকান্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদোগে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই জাতীয় শিল্পমেলায় সারাদেশের বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির, হস্ত ও কারু এবং উচ্চ প্রযুক্তি খাতের প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি আমাদের দেশে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। ব্যাংকের ব্যাপারটা আমরা দেখছি। কয়েকদিন আগে আমরা বসেছিলাম, কীভাবে ব্যাংকের সুদের হারা কমানো যায়।

“সঙ্গে সঙ্গে আমার এটাও অনুরোধ থাকবে যারাই এই ঋণটা নেবেন আপনারাও যদি টাকাটা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেন বা সুদটা পরিশোধ করেন তাহলে ব্যাংকগুলো সচল থাকে। তখন কিন্তু সুদের হার কমানোটা খুব একটা কঠিন হবে না।”

ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি। একবার উদ্যোগ নিলাম সঙ্গে সঙ্গে কথাও বললাম। বেশকিছু সুযোগ-সুবিধাও করে দিলাম। যেমন আগে আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭০ ভাগ অর্থ সরকারি ব্যাংকে আর ৩০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হতো। ব্যাংকের মালিকরা বললেন ‘এটা যদি ফিফটি ফিফটি করে দেয়া হয় তাহলে আমরা (সুদের হার) সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনব।

“সেটাও কিন্তু করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম এবং দিলাম। কিছু ব্যাংকে ঠিকই সুদের হার ৯ পারসেন্টে নামানো হলো। কিন্তু সকলে তা করল না। বাড়াতে বাড়াতে ১৪, ১৫, ১৬ তে নিয়ে গেল। কেন করল না তাদের এই সুযোগটা দেয়া সত্ত্বেও?”

শেখ হাসিনা বলেন, “এখন আমার এখানে প্রশ্নটা হচ্ছে, এই ব্যাংকের মালিক যারা তাদেরও তো শিল্প-কলকারখানা আছে। তারাও তো ব্যবসা-বাণিজ্য করে। এখন আমাকে তো সেই জায়গাটায় আগে হাত দিতে হবে। তারা ব্যাংকও চালাচ্ছে, শিল্পও চালাচ্ছে আবার তারা সুদের হার কমাবে না। তাহলে তাদের ব্যবসা কী কী আছে, না আছে, ট্যাক্সটা ঠিকমতো দিচ্ছে কিনা, ভ্যাট ঠিকমতো দিচ্ছে কিনা, কাঁচামাল ঠিকমতো আছে কিনা।

“শুধু সরকারই সব করে দেবে তা তো না। আমরা তো বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বেসরকারি খাতকে কিন্তু আমাদের সংবিধানেই স্বীকৃতি দেয়া আছে। আমি সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতটা সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত করে দিয়েছি।”

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের একটা সার্বিক হিসাব আছে দেশে ৭৮ লাখের মতো শিল্পকারখানা বেসরকারি খাতে আছে। প্রতি বছর সেখানে যদি একটা মানুষ কাজের সুযোগ পায় তাহলে ৭৮ লক্ষ লোক তো কাজ পেল। তারপরও কেন আমাদের হচ্ছে না সেটা হলো কথা।”

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ না দেয়া আরেকটা প্রবণতা। এই প্রবণতাটাও দূর করতে হবে। ব্যাংকের যে টাকা, এ টাকার মালিক তো জনগণ।

“বেসরকারি খাতে আমরা ব্যাপকভাবে ব্যাংক করার সুযোগ করে দিয়েছি। আমার সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ব্যাংক-বীমা করার সুযোগ-সুবিধা আমরা দিয়েছি। ব্যাংক শুধু দিলেই হবে না। মানুষের মধ্যে ব্যাংক ব্যবহারের একটা প্রবণতাও তৈরি করতে হবে। সেটাও আমরা করে দিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিল্প উদ্যোক্তাদেরও এখন চিন্তা করতে হবে নতুনভাবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কিভাবে শিল্পায়ন ঘটাতে পারি।

দেশের জনগণকে মেধাবী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা এই মেধাকে কাজে লাগাতে পারি।

তিনি বলেন, ‘কেবল একটা নিয়ে পড়ে থাকা নয়, আমাদের শিল্পায়ন, উৎপাদন, রপ্তানি এবং বাজারজাতকরণকে বহুমুখী করতে হবে। আমাদের রপ্তানির বাজেট বাড়াতে হবে। আর সেটা বাড়াতে গেলে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার শিল্পায়ন। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

দেশে যে বিশাল তরুণ সমাজ রয়েছে তাদের সবার কর্মসংস্থান করাই এর মূল লক্ষ্য বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এজন্য প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের বেলায় আমাদের মেয়েরা খুব দক্ষ হয়ে থাকে। তাদেরকে একটু সুযোগ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিলে তারা অনেক কিছুই ঘরে বসেই তৈরি করতে পারে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণ এবং ছোট ও বড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সেতুবন্ধ তৈরিতে সহায়তা করা।

মেলায় মোট ৩শটি স্টল থাকবে। এসব স্টলে ১১৬ জন নারী এবং ১০৭ জন পুরুষ উদ্যোক্তা তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ সমাজকে ও নারী সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে হবে এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে দেশেও যেমন শিল্পায়ন করতে হবে আবার কৃষিপণ্যও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এমন বহু পণ্য রয়েছে যেগুলো আমরা উৎপাদন করে বাজারজাত করে শিল্পায়ন এবং কৃষিকে রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটাতে পারি।

তৃণমূল পর্যায়ে সকল নাগরিক সুবিধা প্রদান করে প্রতিটি গ্রামকে একটি শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই তার সরকার একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে।