• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

মদ্যপ অবস্থায় মারামারির জের

ব্যবসায়ী শেহজাদ হত্যার অভিযোগে বন্ধু গ্রেফতার

| ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

মদ্যপ অবস্থায় বন্ধুদের মারামারির পর মারা যান বনানীর আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী শেহজাদ হোসেন। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শেহজাদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসরা মৃত ঘোষণা করেন। যাদের সঙ্গে হাতাহাতি ও মারামারি হয়েছে তাদের সঙ্গে নিয়মিত বনানীর হোটেল ড্রিমল্যান্ডের বারে যেতেন ব্যবসায়ী শেহজাদ হোসেন। শেহজাদ ‘হত্যায়’ জড়িত সন্দেহে বাবু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার পর পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে। বাবু শেহজাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বুধবার লাশ উদ্ধারের পর বনানী থানায় ব্যবসায়ী শেহজাদকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছে নিহতের বড় ভাই কামাল হোসেন।

গত বুধবার ভোরে অজ্ঞান অবস্থায় আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী শেহজাদকে (৪৫) উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তে শেহজাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার পাশাপাশি স্টমাকে অ্যালকোহল পায় চিকিৎসরা। পরে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ করে তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত মদ পানে, নাকি মারপিটে শেহজাদের মৃত্যু হয়েছে এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবে শেহজাদ হোসেনকে হত্যার অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে তার বড় ভাই কামাল হোসেন বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবর শেহজাদ হোসেনকে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিদপুরের বাগলপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, শেহজাদ হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে। হত্যার একাধিক কারণ মাথায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছে। কয়েকজনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে। এদের মধ্যে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । হত্যার সঙ্গে আটককৃত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা কতটুকু তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, বাবু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাবু শেহজাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাবু ও শেহজাদসহ কয়েকদিন ঘটনার দিন হোটেল ড্রিমল্যান্ডের বারে মদ পান করেন। মদ পানের পর কোন বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি লাগে। শেহজদ হৃদরোগী ছিল। তার হার্টে বড় সমস্যা থাকলেও সে হোটেল ড্রিমল্যান্ডের বারে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত মদ পান করত। হাতাহাতি ও মারামারির পর অচেতন হয়ে যায় শেহজাদ। এরপর তার মৃত্যু হয়। তারপরও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত শেহজাদকে হত্যার কোন কারণ খুঁজে পায়নি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হোটেলের সিসি ক্যামেরায় শেহজাদকে ওই হোটেলে মঙ্গলবার রাতে ঢুকতে দেখা গেছে। এছাড়া হোটেলের ভেতরে এবং বাইরে একজনের সঙ্গে তার বেশ কয়েক দফা কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ভোর ৪টার দিকে হোটেলের বাইরে আসেন শেহজাদ। সেখানে একজনের সঙ্গে হাতাহাতির পর অচেতন হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজন শ্রমিক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, শেহজাদ তাদের গ্রাহক ছিলেন। রাত ১১টায় হোটেলের বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাকে চলে যেতে বলা হলেও তিনি যাননি। পরে অন্য একজনের সঙ্গে রাত ২টার দিকে বের হয়ে যান।

নিহত শেহজাদের বড় ভাই ও মামলার বাদী কামাল হোসেন বলেন, তার ভাই শেহজাদ একজন আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাকে কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কোন ধারণা নেই। এমন কোন শত্রুও তাদের নেই। বুধবার ভোরে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সুইট ড্রিম হোটেলের সামনে শেহজাদকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন পথচারী তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়। কামাল হোসেন জানান, বিকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি রয়েছে তার। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের কাজও করতেন। সম্প্রতি একটি বড় কাজও পেয়েছিলেন তিনি। শেহজাদের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের মেয়েকে নিয়ে ওই স্ত্রী এখন যুক্তরাষ্ট্রের থাকেন। বছর খানের আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। এই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার বসুন্ধরা সিটিতে থাকতেন তিনি। পারিবারিক কোন কারণে শেহজাদ খুন হতে পারেন কিনা- এ প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক কারণে হয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, তার (শেহজাদ) শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি শরীরের ভেতরে অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। তার হার্টও বড় ছিল। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হতে শরীরের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে ভিসেরার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসবের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।