• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

বেরোবির বাস নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের উপজেলা নির্বাচনী প্রচারণা

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে তোলপাড়

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর

| ঢাকা , সোমবার, ০১ এপ্রিল ২০১৯

image

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়ে ছাত্রলীগের প্রচারণা -সংবাদ

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য কেনা মাইক্রোবাস উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উপাচার্যের নিজস্ব নির্বাচনী পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিপপের কাজে ব্যবহারের পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর এবার তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের বাবার নির্বাচনী প্রচারণা করতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে দিনভর প্রচারণা চালিয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের বাবা আতাউর রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই নির্বাচনে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের বাবা আতাউর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ব্যাবহৃত মাইক্রোবাসটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় গিয়ে দিনভর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। মাইক্রোবাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম এবং রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় লেখা থাকায় বিষয়টি নিয়ে ফুলবাড়ি উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি মাইক্রোবাসে ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাস ক্যাম্পাস থেকে ফুলবাড়ি উপজেলায় গেল কে ব্যবহার করার অনুমতি দিল তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর পিএস আমিনুর রহমান। তিনি মাইক্রোবাসে জ্বালানি ভরে সেটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। জ্বালানি তেলের খরচ পুরোটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে কেনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাাপারে উপাচার্যের পিএস ও পরিবহনপুলের পরিচালক আমিনুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশ কয়েকবার ফোন রিসিভ করেননি। পরে শনিবার রাতে কয়েক দফা ফোন করার পর তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন এসব বিষয়ে তিনি কোন কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়ার সঙ্গে তার মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাইক্রোবাস নিয়ে ফুলবাড়ি যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরাও তো গাড়ি ব্যবহার করতে পারি এতে সমস্যা কোথায়? তিনি বলেন, অনেকেই ব্যবহার করেন আমরা করলে দোষের কী হলো বলে জানান তিনি।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ মাঝে মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস নিয়ে কখনো পিকনিক, কখনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের যাতাযাতের জন্য বাস ছাত্র সংগঠন অনায়াসে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের অভিযোগ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর পিএস আমিনুর রহমান পরিবহন পুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ায় শাখা ছাত্রলীগ অনায়াসেই বাস ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। শাখা ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন হওয়ায় যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই বাস ব্যবহারের ব্যাপারে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে গেলে মারধরসহ হয়রানির শিকার হতে হয়।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এটা আমরা মানতে পারছি না। প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পায় না শিক্ষার্থীরা, সেখানে মাঝে মাঝে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্স নেতাকর্মীরা নিয়ে ঘুরতে যায়। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ভিসি ও ভিসির পিএস শিক্ষার্থীদের বাস ব্যবহার করতে দেয়ায় চরম অনৈতিক কাজ করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষকদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে উপাচার্যের নিজস্ব নির্বাচনী পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিপপের স্টিকার লাগিয়ে নির্বাচনের দিন ঢাকায় উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে সংবাদে ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সঙ্গে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।