• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

শেষ মুহূর্তে

বেচা-কেনার ব্যস্ততা কামার পাড়ায়

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

কোরবানির বাকি আর মাত্র একদিন। গরু কেনাও প্রায় সবারই শেষ। এখন বাকি জবাই আর কাটাকুটি করার অনুষঙ্গ কেনা। তাই শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কোরবানির আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ ছুরি-চাপাতি বিক্রেতারা। কামার পাড়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। প্রতি বছরই এসব পণ্যেও বিক্রি কিছু না কিছু বাড়েই। এবারও তার ব্যতিক্রম না। তবে গতবছরের তুলনায় এ বছর কোরবানির ঈদে চাপাতি ও ছুরির দাম কিছুটা বাড়তি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, প্রতিবছর এই সময়টা এলেই নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। আর বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের কামারপট্টিতে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা লোহা দিয়ে তৈরি চাপাতি ৩০০ টাকা এবং পাকা লোহা দিয়ে তৈরি চাপাতি ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট ছুরি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গরু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা পিস এবং খাসি জবাইয়ের ছুরি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর প্রতি পিস ও কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমে কেনা গেছে। তাই দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা জানিয়েছেন, গতবছর কোরবানির ঈদের তুলনায় এ বছর প্রতি কেজি লোহায় কামারেরা ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পুরনো ছুরি চাকু ধার দিতেও অস্বাভাবিক দাম চাইছেন তারা।

মানিকনগর থেকে কমলাপুর বাজারে ছুরি-চাপাতি কিনতে এসেছেন কৌশিক আহমেদ নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, প্রতিবছর এখান থেকে ছুরি চাকু কিনি এবং পুরানগুলো ধার দিয়ে নিয়ে যাই। এখানকার ব্যবসায়ীরা এই সময়টার সুযোগে থাকেন। অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়ে অস্বাভাবিক দাম হাঁকেন তারা। কোরবানির ঈদ এলেই তারা মানুষকে ঠকিয়ে ব্যবসা করেন।

দাম বাড়ার কথা স্বীকার করে মো. সুমন নামের এক কামারশালার মালিক বলেন, আগের তুলনায় প্রতিকেজি লোহায় ১০০ টাকা করে দাম বেড়েছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কয়লার দাম। আগে যে কয়লা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা বস্তায় কিনে আনতাম। সেটি এখন হাজার ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা আনতে হয়। তারপরও কয়লার মান ভালো না। এছাড়া সারাবছর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। এই সময়টায় একটু বেচাকেনা হয় বলে ব্যবসা করে টিকে আছি আমরা। তিনি বলেন, মানুষ সারাবছর এগুলো কেনেন না তাই তাদের কাছে সামান্য দাম বাড়াটাকে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাওরান বাজার কামারপট্টি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়লার দাম বাড়া ও কর্মচারী বেতন বোনাসের বিষয় রয়েছে। তাই জিনিসপত্রের দাম তো বাড়ছে। তবে তা বেশি নয়। তিনি বলেন, দাম একটু বেশি হলেও আমাদের তৈরি জিনিসগুলোর মান অত্যন্ত ভালো। এগুলো একবার কিনলে আট থেকে দশ বছর ব্যবহার করা যায়। কিন্তু কম দামে চায়না জিনিস কিনে ওয়ান টাইম ব্যবহার হবে এবং এটির মান তেমন ভালো নয় তাই ভালো জিনিস পেতে হলে একটু দাম বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।