• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

অভিযান

বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর উদ্ধার

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

ভালো খেজুর সংরক্ষণের জন্য র‌্যাবের ধন্যবাদ পাওয়া এক প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করা হয়েছে। ১ বছর পর যিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন সেই র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ওই প্রতিষ্ঠানসহ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করা হয়। ১ বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এসব খেজুরের প্যাকেটে মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন আমদানি করা বলে বিক্রি করা হচ্ছিল। গতকাল পুরান ঢাকার বাদামতলীর মেসার্স মৌসুমী ট্রেডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযানে সহযোগিতা করেন র‌্যাব ১০। অভিযানে মৌসুমী ট্রেডার্সের গুদাম ও শোরুম থেকে ২০১৭ সালে আমদানি করা মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, অভিযানের শুরুতে মৌসুমী ট্রেডার্সের দুটি গুদামে যায় র‌্যাব। দেখা যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুত রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরের প্যাকেট ছিঁড়ে নতুন চকচকে প্যাকেটে ঢুকিয়ে নতুন করে মেয়াদের তারিখের স্টিকার লাগানো হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মদিনা থেকে আমদানিকৃত সাঊদি ডেটস (আম্বার-এ) বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেয়া হয়েছে ২০২০ সালের ১ আগস্ট। অথচ খেজুরগুলো ২০১৭ সালে আমদানি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন মেয়াদ লাগানো ছিল। সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর খেজুর গোডাউনে আবার ২০২০ সালের মেয়াদের স্টিকার লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এরপর বাদামতলীর সরকার কান্দিলেনের ১৯/১ নম্বর মৌসুমী ট্রেডার্সের শোরুম ও কোল্ডস্টোরেজে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির কোল্ডস্টোরেজের নাম মা এসি মার্কেট। তাদের কোল্ডস্টোরেজে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মেয়াদোত্তীর্ণ সৌদির খেজুর রাখা হয়েছে। স্টোরেজের ভেতরের খেজুরের কার্টনগুলো খুলে ফ্যাকাসে রঙের জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা যায়। ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে এই খেজুর। গতকালও আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, মৌসুমী ট্রেডার্সের তিন ম্যানেজারকে দুই বছর করে জেল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিকে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করে তাদের ৪ টন খেজুর জব্দ করে সেগুলো নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কোল্ডস্টোরেজ, গুদাম ও শোরুমকে সিলগালা করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত তিন ম্যানেজার হলেন- ফারুক, তানভীর ও শফিকুল। তারা সিল দেয়া ও মোড়ক পাল্টানোর কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজি তারেক আহম্মেদ বর্তমানে পলাতক। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হবে।

সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আমরা যা দেখেছি তা অত্যন্ত দুঃখজনক। রমজানের মতো পবিত্র মাসে আমরা দেশের মানুষকে ভেজাল মানহীন খেজুর খেতে দিতে পারি না। তাই আমাদের এই অভিযান। অভিযানে আমরা দেড় থেকে দুই বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরও পেয়েছি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব খুচরা মার্কেটে খেজুর বিক্রি করা হয়েছে সেগুলোও উদ্ধার করা হবে।