• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা : ৮ জনের সাজা

দুই প্রতিষ্ঠান সিলগালা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজধানীর বনানীতে অফিস খুলে ভালো বেতনের চাকরিতে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি ইতোমধ্যে বিদেশ পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এক ধরনের চাকরি কথা বলে বিদেশ পাঠিয়ে অন্য চাকরি দিত প্রতারক চক্র। বাধ্য হয়ে অনেকে অপছন্দের বা কষ্টের চাকরি করতো বাধ্য হয়ে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানী বনানীর ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত ড্রিম ভিসা কনসালট্যান্সি এবং ফাতেমা ওভারসিজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে এ অভিযান প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে লোক পাঠানোর কোন লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দিত। এরপর তাদের অফিসের ঠিকানায় যারা আসত, তাদের বসিয়ে কাউন্সিলিং করত। এরপর তাদের পাসপোর্ট ও বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নিত। নির্দিষ্টসংখ্যক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে নির্দিষ্ট সময় পর পর অফিস বদল করত তারা। এতে ভুক্তভোগীরা তাদের আর খুঁজেও পেত না।

র‌্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই প্রতিষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রথমে অভিযান চালানো হয় ড্রিম ভিসা কনসালটেন্সি অফিসে। ওই অফিসে গিয়ে জানা যায়, তারা ভুয়া লেটার তৈরি করে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে ফাতেমা ওভারসিজে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে পারে এক তরুণীকে দুবাইয়ের একটি অভিজাত হাসপাতালে আয়ার চাকরি দেয়ার কথা বলে সৌদিতে পাঠায় ফাতেমা ওভারসিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই তরুণীকে সৌদি আরবের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার উপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস কাজ করলেও তাকে কোন বেতন ও টাকা-পয়সা দেয়া হয়নি। বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে প্রতারণার অভিযোগে ড্রিম ভিসা কনসালট্যান্সির মালিক তোফাজ্জল হোসেন, জুঁই আক্তার, সানজিদা, সাদিয়া, নাইমা জুম, স্বপ্না আক্তার এবং ফাতেমা ওভারসিজ নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিক কবির হোসেন ও সহযোগী সোহাগসহ ৮ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ওই অফিসে অভিযানের সময় ৩২টি পাসপোর্ট, ভুয়া চুক্তিপত্র, ফিজিতে পাঠানোর ভুয়া ডিমান্ড লেটার জব্দ করা হয়। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফাজ্জলকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকিদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অনাদায়ে প্রত্যেকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়। প্রতারক মানব পাচার চক্রের আটক সদস্যের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে।