• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু হচ্ছে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

image

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রস্তুতিতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র -সংবাদ

জলাধার আইন অমান্য করে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন আদালতের নির্দেশে ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গতকাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিলগালা করা হয়। এরপর ভাঙার কাজ শুরু হবে। রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিজিএমইএ-এর ভবন ডিনামাইট বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করে ভাঙা হবে। এ কাজে সহায়তা করবে চায়না বিশেষজ্ঞরা। গতকাল দুপুরে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল সকাল থেকে বিজিএমইএ (তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি) ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে রাজউক। সকাল ৯টা থেকে ভবনের সামনে রাজউক কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা অবস্থান নেন। পাশাপাশি ভবন ভাঙার গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। তবে বিজিএমইএ ভবনে যেসব অফিস বা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়ে অথবা ক্রয় করে অফিস পরিচালনা করছিল তাদের আগে থেকে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। বিজিএমইএ ভবনে ব্যাংকসহ এমন অনেক অফিস রয়েছে। ক্লিপটন গ্রুপ, স্কাইলান মোটরসের অফিসও ছিল এই ভবনে। তাই ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন অফিসের মালামাল সরাতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ডিনামাইট বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বিজিএমইএ ভবন। এটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিনামাইট ব্যবহার করে ভবন ভাঙার ঘটনা ঘটবে। ডিনামাইট দিয়ে বিস্ফোরণের পর ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়বে। রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার ওলিউর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর সহায়তায় এ ভবনটি অপসারণের কাজ করা হবে। এর আগে র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটে। তবে এ ভবন ভাঙতে ডিনামাইট বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এরপর ভবন সিলগালা করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে খন্দকার ওলিউর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিজিএমইএ ভবনের অফিস অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমরা যে কাজ শুরু করেছি এটাও ভবন ভাঙার অংশ। তাছাড়া এখানে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্টের বিষয় আছে এগুলো শেষ হলেই আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করবো। এত বড় ভবনের নানা বিষয় দেখতে হচ্ছে, এখানে অনেকগুলো ব্যাংক আছে সেটাও দেখতে হচ্ছে।

রাজউকের হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, ভবন অপসারণের অংশ হিসেবে আজ আমরা প্রথমে ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ বন্ধ রেখেছি। এরইমধ্যে আমরা ভবনটি চীনা বিশেষজ্ঞদের দেখিয়েছি। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কোন হতাহতের ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য যতো ধরনের সতর্কতা আছে তা অনুসরণ করা হবে।

সর্বশেষ ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিলেন আদালত। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নামছে রাজউক। বিজিএমইএ ভবন অপসারণে আপিল বিভাগের দেয়া এক বছর সময় শেষ হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। গত বছরের ২ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালত ভবনটি অপসারণে তৈরি পোশাক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএকে ১ বছর ১০ দিন সময় দেন।