• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান কারণ

| ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। গতকাল এফডিসি’তে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে রাইট হেয়ার রাইট নাও’র জাতীয় সমন্বয়কারী সারাবান তাহুরা জামান, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির কনসালটেন্ট কামরুন নেসা হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বি এ ওয়াহিদ নিউটন বক্তব্য রাখেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল, সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা ও সাংবাদিক শারমিন নীরা। বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগকে হারিয়ে ঢাকা বিভাগ জয়লাভ করে।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নিরাপদ যৌন শিক্ষা এবং প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আকাশ সংস্কৃতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষা প্রয়োজন। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে এ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে নারীর প্রতি নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তথ্যানুসন্ধান ও ফলোআপ রিপোর্ট আরও বেশি করে প্রকাশ করতে হবে। সমাজে ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি পরধর্ম সহিষ্ণুতা অনুশীলনের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রশ্রয়ে অনেক সময় অপরাধীরা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়, যা সামাজিক ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। সব স্তরে সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। নির্যাতন শুরু হয় যেখানে সেখান থেকেই আমাদের প্রতিরোধের কাজ করতে হবে। নির্যাতনমুক্ত ও মানবিক সমাজ বিনির্মানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

চৌধুরী কিরণ বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করা হলেও শিক্ষকরা ক্লাসে তা পড়াতে অস্বস্তিবোধ করেন। শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে বাড়িতে পড়ে নিতে বলে থাকেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ১ বছর। এদের মধ্যে অধিকাংশ মেয়েরাই বিয়ের পিঁড়িতে বসা পর্যন্ত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না।

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কিরণ ১০টি সুপারিশ পেশ করেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে- ০১. সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়ও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ০২. যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য জ্ঞান বৃদ্ধিতে ধর্র্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কার দূর করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ০৩. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, নাটিকা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ০৪. তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের যৌন রোগ চিকিৎসায় চিকিৎসকদের ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা ০৫. গণমাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জন্য যৌনশিক্ষা ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান বেশি করে আয়োজন করা ০৬. নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যচিত্র গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারাদেশে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা ০৭. যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রদান করা ০৮. স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোতে কিশোর কিশোরী যৌনশিক্ষা ইউনিট চালু করা ০৯. সমন্বিতভাবে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করা ১০. প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে যৌন ও প্রজনন শিক্ষার ব্যবস্থা করা।