• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

বিচক্ষণ বাজেট প্রত্যাশা এমসিসিআইর

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

  • ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর দিতে পরামর্শ
  • আয়করের ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ প্রস্তাব

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য একটি ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রত্যাশা করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট

আলোচনায় অংশ নিয়ে এই আশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এ সময় তারা আগামী বাজেটে ব্যাংক খাতে বিশেষ নজর, আয়করের ঊর্ধ্বসীমা ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো, কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন নিয়োগকর্তার দেয়ার বিধান প্রত্যাহার, উৎপাদন খাতের সমস্যা মোকাবিলায় শক্ত নীতিমালা প্রদান ও ঘাটতি রাজস্বের চাপ নিয়মিত করতাদাতের উপর না দেয়াসহ একগুচ্ছ বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসিআই। এমসিসিআই-এর পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি গোলাম মাইনুদ্দীন এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আগামী বাজেটে উৎপাদন খাতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া বড় প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রণালয়ে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন। ছোট ছোট প্রস্তাবগুলো এনবিআর বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। করপোরেট ট্যাক্স অনেক দেশেই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বীমা গ্রাহকদের টিআইএন থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্যাক্সরেট নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমসিসিআই’র বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, স্বল্পন্নোত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নিত হওয়ার মর্যাদা পেয়েছি। এই তালিকা ধরে রাখতে হলে আমাদের উন্নয়নের সূচকের আরও উন্নত করতে হবে। তাই আমাদের এ বছর দরকার একটি ‘বিচক্ষণ’ বাজেট। এই আলোচনার সঙ্গে ব্যাংক খাতের প্রসঙ্গ টেনে এমসিসিআই বলে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে সব ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে সামনের দিনগুলোতে বড় সমস্যায় পড়তে হবে আমাদের। তাই এবারের বাজেটে ব্যাংক খাতের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এমসিসিআই বলে, আমরা সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করি। যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র পর্যায়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ঘটিত চ্যালেঞ্জগুলো এখন পর্যন্ত মোকাবিলা করা গেছে। তবে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হচ্ছে না। দেশের উৎপাদন খাত এখনও বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি আমাদের উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। তাই আগামী বাজেটে শিল্প ও কৃষি খাতের অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ‘শক্ত নীতি প্যাকেজ’ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের জন্য উদার বরাদ্দ থাকা উচিৎ। এটি উন্নয়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলেও জানায় এমসিসিআই।

প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিবছর বাজেটের রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করতে বছরের শেষ দিকে এসে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) অধিনের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়। যা শাস্তিস্বরূপ। এতে করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হয়। তাই রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিকল্প সমাধান খুঁজতে হবে।

এমসিসিআই বলেছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৩০ (এএএ), (এএএএ) এবং ধারা ১০৮এ- এর অধীনে একটি নতুন উপধারার সূচনা করেছে ফিন্যান্স অ্যাক্ট- ২০১৭। তা হলো নিয়োগকর্তাকে তার কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ঘটলে কর্মচারীকে প্রদেয় বেতন ও অন্য সুবিধাদিকে সংগঠনের অননুমোদিত খরচ হিসেবে ধরা হবে। এই ধরনের বিধান ট্যাক্স নীতি এবং প্রকৃত ন্যয় বিচারের পরিপন্থী। আমরা এনবিআরকে এই ধারা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ হার এখন ৩০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। চেম্বার মনে করে এই সামান্য হ্রাস ব্যক্তি কর দাতাদের সত্যিকার আয় প্রকাশে উৎসাহিত করবে। এছাড়া সব ক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জীবন ধারার ব্যয় বেড়েছে। সে হিসেবে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য সরকার একটি ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রণয়ন করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

এ সময় এমসিসিআই নেতারা ভ্যাট আইনের বাস্তাবায়নে সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে এফবিসিসিআই’র সঙ্গে কাজ করা আগ্রহ প্রকাশ করেন। আলোচনায় এনবিআর সদস্য, এমসিসিআইসহ অন্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আলোচনায় চেম্বারের ট্যাক্সজেশন সাবকমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।