• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

বিএনপিকে ভাঙতে বার বার চেষ্টা করা হয়

মির্জা ফখরুল

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে ভেঙে ফেলার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও খালেদা জিয়া একটি মাত্র কারণে কারাগারে; বিএনপিকে নিঃশেষ, রাজনীতিকে ধ্বংস এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু এটি সম্ভব হবে না। কারণ, এই দল ও তার রাজনীতি এ দেশের মানুষের জন্য। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘শত নাগরিক কমিটি’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দেশের জনগণের দল। বিএনপি প্রতিটি সংকটের মুহূর্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলে নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে আমি একমত নই। ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী যেখানেই থাকুন, জেলে বা বাইরে থাকুন তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।’ খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এত অসুস্থ যে, বলে বোঝানো যাবে না। নববর্ষের দিন আমরা তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি এখন হুইল চেয়ার ছাড়া হাঁটতেও পারেন না। বিছানা থেকে ওঠার জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয়। তারপরও তিনি এতটুকুও মনোবল হারাননি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তার (খালেদা জিয়ার) মনোবল আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। তরুণ ও যুবকদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। সেই মনোবল নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশ মাতাকে মুক্ত করতে হবে আমাদের। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, তার পুরোটা হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান খালেদা জিয়ার। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক কারণে উনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে আছেন তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন মামলায়, যার কোন সারবত্তা নাই। আমি বলতে চাই, তার মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নাই। তিনি আরও বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের এই নির্যাতন, এই অত্যাচারের কারণেই বিএনপি আগামী শত বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। কেন? এই যে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা কি ভুলে যাবে? তাদের আত্মীয়স্বজন-ভাই-বোন-ছেলে-মেয়েরা? কোটি কোটি মানুষ, তারা নীরব থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপিকে একেবারে স্থায়ীভাবে মজবুত করে দিয়ে গেল আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসন।’

‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। বইটির দুই সম্পাদকসহ আরও ১২ জনের লেখা রয়েছে এতে। বইটি প্রকাশ করেছে ‘বুক এভিনিউ’, দাম রাখা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষা-প্রসার, ভিশন-২০৩০, ১/১১ সরকারের সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।