• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

রমজান সামনে রেখে

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

image

আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহে বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজসহ কয়েকটি শাক-সবজির দাম। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে প্রায় ২০ টাকা। মাছ-মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, শেওড়াপাড়াসহ কয়েকটি বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা পাল্লা যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে চার এবং আলু দুই টাকা বেড়েছে। এছাড়া আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে রসুন ও আদা। মিরপুর ও শেওড়াপাড়া এলাকার বাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজপ্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৩০-৩২ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ টাকা। প্রতি কেজি আলুর বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মনিরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজ ও আলু এমন দুই পণ্য যা কেনা মানুষের জন্য একেবারে বাধ্যতামূলক। অন্য সবজি দুই এক সপ্তাহ না কিনলেও চলে। পেঁয়াজ ও আলু না কিনলে চলে না। সেই সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা পণ্যগুলোর দাম বাড়ানো শুরু করেছে।

আলু-পেঁয়াজের দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। বাজারভেদে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায় যা এর আগে ছিল ১০০-১০৫ টাকা। ডিমের দাম কমার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহের থেকে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। দুই সপ্তাহ হিসেবে কমেছে ২০ টাকা। সামনে দাম আরও কমতে পারে। কারণ রোজায় ডিমের চাহিদা কম থাকে।

এছাড়া অন্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো ও শসা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ পণ্য তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। প্রতি কেজি ধুন্দুল ৭০-৮০, বেগুন ৫০-৬০, মুলা ৩০-৪০, গাজর ৪০-৫০ ও ঢেঁড়শ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, আমরা পাইকারি বাজারে যে দামে কিনি তার চেয়ে কয়েক টাকা লাভ করে বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হবে। আসলে বাজারটা নিয়ন্ত্রণ হয় পাইকারদের হাতে। তারা যদি ইচ্ছা করে দাম বাড়াতে তাহলে বাড়বে আবার তারা যদি মনে করে দাম কমবে তাহলে কমবে।

আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের মাংস। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫?-১৫০ টাকা কেজি দরে। লাল লেয়ার মুরগি ১৮০-১৯০, পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০-২৫০ টাকায়। এছাড়া বাজার ভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়। মাংসের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজিতে। পাঙাশ ১৫০-১৮০, রুই ২৫০-৪৫০, টেংরা ৭০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকা কেজি।