• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

ভিসিবিরোধী আন্দোলনে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার অভিযোগ এনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি পালন কিছুটা শিথিল করায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনদুর্ভোগ কমেছে। শুক্রবার থেকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসসংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা থেকে বিরত আছেন।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন শিফাত জানান, সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে সাপ্তাহিক এবং পহেলা বৈশাখ উৎসবের ছুটি শুরু হওয়ায় আপাতত তাদের কর্মসূচি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রোববার ক্যাম্পাসে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে। শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন জানান, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা হতো। এবার কর্তৃপক্ষ কোন আয়োজন না করায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উৎসব পালন করেছে। রোববার সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীদের মঙ্গল শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে মুড়ি ও বাতাসা দিয়ে সবাইকে আপ্যায়িত করা হয়। ১২টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বেলা ১টায় হাঁড়িভাঙা প্রতিযোগিতা, বিকেলে উন্মুক্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত চা চক্র অনুষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় গত ২৬ মার্চ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে একদল শিক্ষার্থী। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে পারেনি। একইদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে অন্য এক অনুষ্ঠানে সকালের ঘটনায় উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক দাবি করেন যে, আন্দোলনকারীদের আচরণ ‘রাজাকারের সামিল’। অবশ্য শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন ওই সময়ে উপাচার্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে এখন তা অস্বীকার করছেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ তুলে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দুদিন পর উপাচার্য তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ দিনের ছুটি চেয়ে গত মঙ্গলবার আবেদন করলেও শিক্ষার্থীরা তা আমলে না নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।