• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

ববি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল ২০১৯

দুঃখ প্রকাশ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসএম ইমামুল হকের দেয়া বক্তব্য ও আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে অটল রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য তার বক্তব্যের মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছে বলে অভিযোগ তাদের। এজন্য ভিসির পদত্যাগের বিষয়টিই এখন একমাত্র দাবি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কলাবাগানের লিয়াঁজো অফিসে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়ার ঘটনা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন ভিসি। সভা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার প্রদত্ত বক্তব্যের একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমি বলতে চাই, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজাকার সম্বোধন করিনি। বরং যারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করতে চায় তাদের এমন কার্যক্রমকে রাজাকার সাদৃশ্য মর্মে মন্তব্য করেছি। তবে এ শব্দটি আমি কোনভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলিনি। এরপরও যদি আমার বক্তব্যে কোন শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এদিকে উপাচার্য দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বরং তাদের এক দফা এক দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ। এ দাবিতে প্রতিদিনের ন্যায় রোববারও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। এখনও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে এক দফা দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে সব শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হলেও তারা হল ত্যাগ না করে প্রতিদিনই বিকেলে শহীদ মিনারে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করছে ও মাঝে মাঝেই ভিসির পদত্যাগ দাবি করে সেøাগান দিচ্ছে। তারা নিয়মিত রণসঙ্গীত, ব্যঙ্গ নাটিকা, কবিতা ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম, সিফাত আহমেদ ও লোকমান হোসেনসহ আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা বলেছেন, উপাচার্য শুক্রবার যে বক্তব্য দিয়েছে তা তার মিথ্যাচার। কেননা তিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেননি বলে দাবি করেছেন। অথচ তিনি যে গালি দিয়েছেন সেটা একেবারেই সত্যি এবং এর অনেক প্রমাণও রয়েছে। তাছাড়া তিনি যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন তাতেও শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভিসি উল্লেখ করেছেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের রাজাকার বলেছেন। আন্দোলন শিক্ষার্থীরাই করেছে। বাইর থেকে এসে কেউ আন্দোলন করেনি। সুতরাং আমরা ভিসির ওই মিথ্যাচারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করে বরিশাল নগরীর কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে চা-চক্রের আয়োজন করে। শিক্ষার্থীরা এরকম কর্মসূচির প্রতিবাদ জানালে ভিসি প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে অভিহিত করেছেন বলে দাবি করে ওইদিনই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে যা শেষ পর্যন্ত এক দফার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কারণেই গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তা মানেনি। টানা ছয়দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।