• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বিভিন্ন জেলার পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। যমুনার পানি ক্রমাগত বাড়ায় জামালপুরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এরমধ্যে জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। মানুষ ছুটছে আশ্রয়ের সন্ধানে। সেই সঙ্গে খাদ্য সমস্যা। জেলায় পানিতে ডুবে মারা গেছে ২ শিশু। যমুনার সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে পানি। ডুবে গেছে চর ও নিম্নাঞ্চল। দিশেহারা মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। জেলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া ছাড়াও নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারাচ্ছে মানুষ। তবে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

জামালপুর : জামালপুরে ক্রমাগত বাড়ছে যমুনার পানি। এতে নদীপারসহ নতুন নতুন এলাকাগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে ২ শিশু।

সর্বশেষ খবর পর্যন্ত যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আবদুল মান্নান।

বন্যা কবলিত ইসলামপুর উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়- বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে মানুষ।

চিনাডুলি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা বন্যায় প্লাবিত। এসব এলাকার ৪ হাজার পরিবারের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়াও পৌর এলাকা, চিকাজানি, চুকাইবাড়ি, ডাংধরা ও বাহাদুরাবাদ, সরিষাবাড়ীর পিংনা, পোগলদীঘা, আওনা, কামারাবাদ ও সাতপোয়া ও বকশীগঞ্জে মেরুরচর ও সাধুর পাড়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরে ৩৫০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৭ লাখ টাকা ও ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার ৪৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা নেয়ার জন্য ইঞ্জিনচালিত ১২টি নৌকা রাখা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৫৭৫ হেক্টর জমির পাট, ১৩০ হেক্টর আউশ ধান, ১৭৭ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর বীজতলা ও ২ হেক্টর জমির বাদাম।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ জানিয়েছেন, পানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। আরও দু’একদিন একই গতিতে পানি বাড়বে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে করছে মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ীর মির্জাপুরে গত রোববার সন্ধ্যায় বন্যার পানিতে ডুবে সোহান নামের ৭ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়াও গতকাল দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের রোকনাই গ্রামে সানি নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশু বন্যার পানিতে ভেসে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসিমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাট, ভুট্টা শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গতকাল সকালে যমুনা নদীতে পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ১৩.৬৩ মিটার রেকর্ড করা হয়। এরই মধ্যেই সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার (১৩.৩৫ মিটার) অতিক্রম করেছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান ।

অপরদিকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসিমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই বন্যাকবলিত হয়ে পরছে নতুন নতুন এলাকা ফলে বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে । সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম গতকাল সকালে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনা নদী অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর উপজেলা, বেলকুচি উপজেলা চৌহালী উপজেলা ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দরিদ্র অসহায় মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা সহায় সম্বল, গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক জানান, বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাট, তিল, কাউন, আখ, মরিচ, বোরো আমন, আউশ ও সবজি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটখোলা থেকে কাজীপুরের শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেলে আশপাশ এলাকায় পানি ঢুকে ডুবে পড়েছে দেড় শতাধিক বাড়িঘরে, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত দুই হাজার মানুষ।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ পর্যন্ত ৬১০ হেক্টর আউশ ধান, ১২০ হেক্টর ভুট্টা, ৪০ হেক্টর আখ, ১৬০ হেক্টর কাউন , ৪৫০ হেক্টর শাক-সবজি এবং ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির পাট সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেছে। কাজীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, এতে করে মোট কুড়ি হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এদিকে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পানিবন্দী পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছে বিপাকে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বাঁধে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। কাজীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, আমরা খোঁজখবর রাখছি। ২৩ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গতকাল দুপুর ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙন কবলিত ও পানিবন্দী লোকজন তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নৌকায় করে আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা ও নামাপাড়া গ্রামের ৫৭টি, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আলগারচর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচন্ডি, পাগলারচর, তিনথোপা গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ৮৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় বালাসীঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর ও কাইয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি বন্যার পানিতে নিমজিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন জানায়, ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ টাকা ও ৬০ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তারমধ্যে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪ উপজেলায় ২ লাখ টাকা এবং ৪০ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এদিকে জেলা প্রশাসক গতকাল জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। বাঁধগুলো যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে বহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ঘাঘট শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গ্রাম পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীদের সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিয়োগ করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ : অন্যদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার ৭শ’ পরিবারের ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গত ৬ দিন থেকে একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বেলকা, হরিপুর, কাপাশিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ১০ হাজার ৭শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন।

সরকারিভাবে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন, গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জ্বালানী না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গাইবান্ধা পাউবো কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০.৪৫ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ্ জানান, তার ইউনিয়নে ৭ হাজার ৫শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। বানভাসীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম সরকার জিমি জানান, তার ইউনিয়নে ২ হাজার ৩শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। কঞ্চিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম জানান, তার ইউনিয়নে ৪শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। শান্তিরাম ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সামিউল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়েছে ২শ’ পরিবার।

সুনামগঞ্জ : ভারতের চেরাপঞ্জিতে বৃষ্টি পাত কম হওয়ায় এবং সীমান্তের ওপার থেকে পাহাড়ি ঢল না আসার কারণে সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। গতকাল সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আশা করা যায়, আরও দ্রুত পানি নেমে যাবে। স্থানীয় লোকজন জানান, নদী থেকে পানি নেমে এখন হাওরের দিকে গড়াচ্ছে। হাওর এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি ও আঙ্গিনায় এখন ও কিছু পানি রয়েছে।

শহরের অনেক সড়কে হাঁটু পানি আছে। অভিজ্ঞদের মতে যেহেতু রোদ উঠছে পানি নামবে তাড়াতাড়ি। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান জানান দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।