• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধে তালের বীজ রোপণ প্রকল্প

নিরাপদ থাকতে সচেতনতার পরামর্শ

সংবাদ :
  • বাকী বিল্লাহ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

বর্ষা আসতে না আসতেই সারাদেশে শুরু হয়েছে বজ্রপাত ও বজ্রবৃষ্টি। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে কৃষক ও জেলে। গতকাল দুপুরে সিলেটে ৩ জন মারা গেছে বজ্রপাতে। এ ছাড়াও সুনামগঞ্জে ১ জন মারা গেছে বলে সিলেট থেকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছেন। এছাড়া বাগেরহাট এক স্কুল ছাত্রী মারা যায় গত বছর দেশে বজ্রপাতে যে পরিমান মানুষ মারা গেছে তার মধ্যে শতকরা ৮৭ ভাগই কৃষক ও জেলে। আর সবচেয়ে বেশী বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জে ও হাওয়ার অঞ্চলে। এপ্রিল মাস থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত বেশী বজ্রপাত হয়। আর বোরো ধান কাটার সময় কৃষকরা বেশী মারা যান। বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার ঠেকাতে তালগাছের বীচ বোপন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩২ লাখ তালের বীজ লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বীজ লাগানো হবে। কিন্তু এক একটি তালের বীজ থেকে পূর্নাঙ্গ তালগাছ হতে কমপক্ষে ২২ থেকে ২৫ বছর সময় লাগবে। বজ্রপাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য জনসচেতনতা দরকার। বজ্রবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বাইরে না থাকা ভাল। বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ ও দূযোগ মন্ত্রণালয় থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে। বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ ডঃ এম এ ফারুখের মতে, বজ্রঝড় সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এই সময় ঘরে অবস্থান করাই ভাল। এ ছাড়াও গভীর ও উলম্ব আকারের মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে বের না হওয়া ,অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা বা মাঠ বা উচু স্থানে না থাকা,বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেতে বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে বা কানে আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়া ভাল। আর বজ্রপাতের আশংকা হলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া। বজ্রপাতের সময় উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুটি, তার, ধাতব, খুটি, মোবাইল টাওয়ার থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি ভবনে বজ্রপাত নিরোধ বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে থাকা দরকার। আর বজ্রপাতে কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আক্রান্তের মতদ্রুত চিকিৎসা করা ও প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসক ডাকা বা হাসপাতালে নেয়া উচিত। এ ছাড়াও বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই ইলেট্রনিক পণ্যের প্লাগ বিচ্ছিন্ন করা দরকার।

বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর এ বজ্রপাতের জন্য দায়ী করা হচ্ছে গভীর ও উল্ম¦ আকারের মেঘ। আকাশে এ ধরনের মেঘ দেখা দিলে বুঝতে হবে বজ্রপাত হতে পারে। বজ্রপাতের অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে দীর্ঘ শুস্ক সময় শেষে আদ্রতা,উঁচু বৃক্ষ নির্ধন, আর বায়ুমন্ডলে বাতাসের তাপমাত্রা ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের তুলনায় কম থাকে বিধায় গরম বায়ু দ্রুত উপরে উঠে গেলে আদ্র বায়ুর সংস্পর্শ পায়। তখন বায়ু দ্রুত ঠান্ডা হওয়ায় বজ্রমেঘের সৃষ্টিতেই বজ্রপাত সংঘটিত হয়।

জানা গেছে,বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ সমূহে বছরে বজ্রপাতে মৃত্যুরহার এক কোটিতে ৪জনের কম। এরপরও প্রতি বছর বিশ্বে কমপক্ষে ২ হাজার লোক বজ্রপাতে মারা যায়। আর আড়াই লাখ লোক আহত হয়। বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১শ বার বজ্রপাত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৮০ লক্ষ্যবার বজ্রপাত হয়। এ বজ্রপাতে বিশ্বে ক্ষতির পরিমান বছরে ১শ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বে সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাত হয় ভেনিজুয়েলার মারাকাইবো লেকে যা গড়ে ৩শ দিনই হয়। আর ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশী।