• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

টাঙ্গাইলে গ্রেফতার ৩৬ জামায়াত-শিবির কর্মী

বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশের বৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতা কর্মকান্ডের পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতার হওয়া জামায়াত-শিবিরের। বনভোজনের নামে এই নাশকতার পরিকল্পনা করে তারা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুকে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য তারা একত্রিত হয়েছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই এবং লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে বুধবার আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে উপস্থিত করে রিমান্ড চায় পুলিশ। গোপালপুরের আমলী আদালতের বিচারক শামছুল আলম ১৮ জনকে দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। বাকি ১৮ জনকে টাঙ্গাইল জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার মির্জাপুর উত্তরপাড়ার মৃত খন্দকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম মোস্তফা রঞ্জু (৫৪), কোনাবাড়ি বাজার এলাকার মৃত পাষাণ আলীর ছেলে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আশরাফ আলী (৬৭), গাড়ালিয়া গ্রামের মৃত তৈয়ম শেখের ছেলে হাসেন আলী (৫৫), বেতবাড়ী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মহিউদ্দিন (২২), দক্ষিণ গোপালপুরের আছর আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৩০), গাংগা পাড়ার মৃত মনছব আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪৮), উত্তর গোপালপুরের বাহার আলীর ছেলে ইনসান আলী (২০), কোনাবাড়ির আব্দুস ছামাদের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৮), নবগ্রামের মৃত মোছাবালীর ছেলে আব্দুল মালেক (৬০), কোনাবাড়ি বাজারের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে নূর মোহাম্মদ (৬৪), বিষ্ণুপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (৩২), লক্ষীপুরের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৬০), সোনামুই মধ্যপাড়ার মৃত দুদু শেখের ছেলে শিব্বীর আহমেদ (৫৯), গাংগা পাড়ার মৃত ছাদের আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৫৪), হাজেরা বাড়ির মৃত মুনসুছ আলীর ছেলে ইউনুস আলী (৩৫), ভুটিয়া গ্রামের মৃত সবর উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (৫৫), মধুপুর ভট্ট গ্রামের মৃত জোবেদ আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (৪৫), বাখুরিয়া বাড়ির মৃত জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৬০), বেড়া ডাকুরির আব্দুস ছোবাহানের ছেলে আব্দুস ছবুর (৭০), খানপাড়ার মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৪২), দক্ষিণ গোপালপুর চর পাড়ার মোজ্জামেল হোসেনের ছেলে সোহাগ (১৯), চাতুটিয়ার আব্দুল আজিজের ছেলে মাসুদ করিম (৪০), মির্জাপুর উত্তর পাড়ার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে নাসির উদ্দিন (২৪), মধ্যমান্দিয়ার শাহেব আলীর ছেলে আশরাফ আলী (৪৪), ঝাওয়াইলের মৃত পাচু মাহমুদের ছেলে আব্দুল হাকিম (৭৭), ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা চরপাড়ার মৃত হযরত আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (৩২), পাকুটিয়ার আব্দুর রশীদের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (২৭), পলশিয়ার মৃত পাষাণ আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন (৫৬), কোনাবাড়ি বাজারের হেকমত আলীর ছেলে ফরমান আলী (২৮), কোনাবাড়ি বাজারের মৃত লাল মাহমুদের ছেলে হেকমত আলী (২৮), জোত বাগদের নামিজ উদ্দিনের ছেলে বিজয় হোসেন মাসুদ (৩০), মোহনপুরের মৃত শুক্কুর মাহমুদের ছেলে নাইম খন্দকার (৪৪), জোত বাগলের নিজাম উদ্দিনের ছেলে রাসেল রানা (২০), সোনাইমুইয়ের কোরবান আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৩০), গাইবান্দা জেলার মফিজুল হকের ছেলে শাহজাহান (৬২) এবং জামালপুর জেলার মৃত মনছের আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫)।

সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সবাই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। দেশের বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতামূলক পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পূর্বে তারা বনভোজনের নামে সেতু এলাকায় রেকি করেছে। নৌকা ভ্রমণের নামে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তারা নাশকতা তৈরির জন্য যমুনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে যাওয়ার জন্য গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারে একত্রিত হয়। পরে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দেশে মঙ্গলবার আশুরার অনুষ্ঠান ছিল। এই দিনে তারা বনভোজনের নামে নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই এবং লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গোপালপুর থানার এসআই আব্দুল মালেক বাদি হয়ে ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৫৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।