• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ৬ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

বগুড়ায় শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টা : অফিস সহকারী গ্রেফতার

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বগুড়া

| ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় মানিক দ্বিপা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী সেই অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীন গ্রেফতার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার এসআই ছাম্মাক হোসেন। হারেজ উদ্দীন শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য।

গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের লাইব্রেরি কক্ষে ওই সহকারী শিক্ষিকাকে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করেন স্কুলের অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীন। এই ঘটনায় প্রথমে মৌখিকভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটিকে অবহিত করেন ওই শিক্ষিকা। পরদিন সকালে প্রধান শিক্ষককে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনা তদন্তে আসেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। সত্যতা পাওয়ায় অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা সেদিন রাতে নিজে বাদী হয়ে থানায় এজাহার করেন। পরপরই হারেজ উদ্দীনকে গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয় হারেজ উদ্দীন। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন পুলিশ। ঘটনাটি পুরো উপজেলাজুড়ে নিন্দা এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

অপরদিকে অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীন উপস্থিত না থাকলেও গত বৃহস্পতিবার তার পক্ষে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দাবি করে অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন এবং অ্যাডভোকেট মজনু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন এবং অ্যাডভোকেট মজনু বিদ্যালয়ে এসে নোটিসের জবাব দিয়ে গেছেন। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন জানান, তিনি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দয়িত্বে আছেন। অফিস সহকারী হারেজ উদ্দীন নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এবং অ্যাডভোকেট মজনু বিদ্যালয়ে নোটিসের জবাব দিয়ে এসেছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, আবদুল মতিন নামে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ নেই। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। যুবলীগের কোন নেতাকর্মী বিএনপি নেতার জন্য কাজ করতে যাবে না। যুবরীগের সম্মানহানির জন্য অপপ্রচার বলে তিনি দাবি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ছাম্মাক হোসেন জানান, হারেজ উদ্দীনকে গ্রেফতারের পর কোর্টের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ড চাওয়া হবে।