• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ ২৭ শাবান ১৪৪২

বইমেলায় বসন্ত নামবে কাল

সংবাদ :
  • আবদুল্লাহ আল জোবায়ের

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন বইমেলা বইমেলা/চলো যাই এই বেলা/পাগলের সেরা পাগল বইয়ের পাগল যারা/একুশের গ্রন্থমেলা জমিয়ে তোলে তারা। কবি আবু জাফর লিখেছেন, বইমেলা, বইমেলা, অমর একুশে বইমেলা/তোমায় পথচলা, মন উতালা, ভাবি সারাবেলা/ফুলের বাগিচা, আলোর দিশা, বাংলা একাডেমি/মোদের আশা বাংলা ভাষা, এ যে আমার জন্মভূমি। দুই কবিই তাদের কবিতার মাধ্যমে পাগলের সেরা পাগল বইপ্রেমীদের কথা বলে গেছেন। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কাল সেসব বইপাগলদের ঢল নামবে। কারণ, কাল যে বসন্ত। সেই শিহরণ প্রকৃতিজুড়ে। আম-কাঁঠাল গাছের ডালে বসে কোকিল তার সুমধুর সুরে ডাকছে। গাছে গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। চারদিকে শুকনো পাতার ওড়াওড়ি। সবার মাঝে একটা উৎসবের আমেজ। এ সবই যেন বসন্তকে বরণ করার জন্য। কাল পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। সেই আনন্দের রং লাগবে মেলায়। তরুণ-তরুণীরা কাল মেতে উঠবে বসন্ত আবাহনে। বসন্তের আগমনে বাসন্তী সাজে সাজবে পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ। পহেলা বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস পরপর হওয়ায় তার রেশ মেলায় পড়তে শুরু করে আগে থেকেই। বাসন্তী শাড়ি পরে, খোঁপায় পলাশ ফুল গুঁজে মেয়েদের ঘুরে বেড়ানো মেলায় উৎসবের রং বুলিয়ে দেয়। ফাগুন যে আসছে, তার ছোঁয়া শুধু প্রকৃতিতে নয়, দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে মানুষের বসনেও। কয়েক দিন ধরেই মেলায় বাসন্তী রঙের পোশাক আর মাথায় ফুলের টোপর পরে আসছেন তরুণীরা, তরুণদের পোশাকেও ছোঁয়া লেগেছে উচ্ছলতার। কাল সেই উচ্ছলতার বাঁধভাঙা জোয়ারে জমে উঠবে মেলা। কাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শুরু হবে বসন্ত উৎসব। সেখান থেকে মেলাগামী হবে মানুষ।

গতকাল মাঘের শেষ দিনেও মেলায় ছিল বসন্তের আবহ। ঝিরঝিরে পাতা ঝরার শব্দের মতো দলে দলে মানুষ এসেছিলেন মেলায়। তরুণীদের পোশাকে ছিল বসন্তের ছোঁয়া। পরদিন শুক্রবার ছুটির দিন, ভালোবাসা দিবসও। বইমেলার উৎসবের সঙ্গে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস দুটি দিন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দুটি দিনে বইয়ের বিকিকিনিও থাকে বেশ। উপন্যাস, গল্প ও কবিতার বইয়ের চাহিদা বেশি থাকে। তাই, নিশ্চিত করেই বলা যায়, বইমেলায় জোয়ার নামবে কাল-বসন্তের আগমনী উচ্ছ্বাসে ভাসবে উদ্যান থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। আর সে জোয়ার স্পর্শ করবে পুরো রাজধানীকেই।

গতকাল বিকেল ৩টায় মেলার দ্বার উন্মোচনের আগেই গেটের সামনে দর্শনার্থীদের ভীড় দেখা যায়। বইমেলায় এসেছেন বৃদ্ধ, যুবক সবাই। ছোট শিশু কিশোরদের নিয়ে মা-বাবারা আসেন মেলায়। একুশের চেতনায় ভাস্বর এই বইমেলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ছড়াবে শিক্ষা ও দেশের প্রতি ভালবাসার আলো, সেই প্রত্যাশায়। মেলায় এদিন পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মেলার শোভা বাড়ায়।

প্রকাশকরা আশা করছেন, কাল পহেলা বসন্ত আর আগামীকাল ভালোবাসা দিবসের মধ্য দিয়ে মেলা পুরোপুরি জমে উঠবে। এ দু’দিনকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রকাশকরা। ফাগুনের ছোঁয়ায় জমজমাট কেনাবেচার প্রত্যাশায় গতকাল তারা স্টলের ঝাঁপি নামিয়েছেন।

গতকাল শীতের শেষ দিনে তার উদাহরণ মিলল গ্রন্থমেলার একটি স্টলের কাছে। একই নকশার বাসন্তীরঙা শাড়ি পরে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত ফাতেমা ও নাজমা খান। জানালেন, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষাজীবনের পুরো সময়ই একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন তারা। দু’জনই গত ফাল্গুনের শাড়ি পরে মেলায় এসেছেন। তারা জানান, পছন্দ হলে বইও কিনবেন। তবে বসন্তের প্রথম দিনও অবশ্যই আসবেন মেলায় তাদের প্রিয় মানুষের সঙ্গে।

বান্ধবীকে নিয়ে গতকাল মেলায় এসেছেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন। তিনি সংবাদকে বলেন, বইমেলার অনুভূতি তো সবসময়ই ভালো। তবে, প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসার অনুভূতি অন্যরকম। মেলা থেকে বান্ধবীকে তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘কবি উপন্যাস’ বইটি কিনে দিয়েছি। পছন্দ হলে আরও কয়েকটি উপন্যাসের বই কিনব।

এদিকে, গতকাল বইমেলায় বিকিকিনিও ভালো ছিল। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে প্রকাশক ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মাহবুবুর রহমান বলেন, কাল মেলা শুরু হওয়ার পর থেকে ছুটির দিনের মতোই অনেক বেশি বই বিক্রি হচ্ছে। বলা যায়, ফাগুনের আমেজ একদিন আগেই আমাদের স্টলে চলে এসেছে। কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সোহেল বলেন, কাল বিক্রি অনেক ভালো। বরাবরের মতোই হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবালের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।