• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

প্রতারক গ্রেফতার

ফেসবুকে তিনি এএসপি মেডিকেলে বিএমএ নেতা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

ফেসবুকে তিনি পুলিশের এএসপি! মেডিকেলে গিয়ে বনে যান বিএমএ নেতা। আবার আদালতে তিনি বড় অ্যাডভোকেট! তিনি ফয়েজ আলী। অবশ্য তাকে সবাই মাহি নামেই চেনে। বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি। কথিত এই মেধাবী ব্যক্তির বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ জোয়ারা গ্রামে। ফয়েজ আলী কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো নারী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বামী, কখনো বা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অসহায় মেয়েদের টিউশনি দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করায় ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ হাসপাতালের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এই প্রতারক। গ্রেফতারের পর প্রতারণার কৌশল অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তখন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘লেডি টিউটর প্রতারক গ্রেফতার’ শিরোনামে তাকে নিয়ে সংবাদ ছাপা হয়।

এবার সেই প্রতারক আটক হলেন জালিয়াত হিসেবে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোকাররম ভবন এলাকা থেকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে পরবর্তীতে রমনা থানায় শিফট করে দেয়া হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, এটা রমনা থানা দেখবে, তাই তাকে রমনা থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি চাকরি দেয়ার নাম করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নেন।

সূত্র জানায়, ফয়েজ আলী থাকেন রাজধানীর কমলাপুরের নূরজাহান হোস্টেলে। এর আগে সে ‘লেডি টিউটর আবশ্যক’ এ ধরনের সাইনবোর্ড লাগিয়ে মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে টিউশনিতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের নগরীর একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে ছবি তুলত ফয়েজ। ছবিগুলোকে পরে এডিট করে ‘আপত্তিকর’ করা হতো। এসব ছবি ফাঁস করার হুমকি দিয়ে টাকাও আদায় করত সে। লেডি টিউটর হিসেবে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সে মামলা থেকে একসময় খালাস পান ফয়েজ আলী। এরপর ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হয়ে যান। তার প্রতারণার শিকার হন স্টেট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগ থেকে মাস্টার্স করা আহসান হাবীব।

জালিয়াতি করে টাকা নেয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী আহসান হাবীব সংবাদকে বলেন, ফয়েজ আলী তাকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পরিচিত লোকজনের মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে বলে জানায়। কিন্তু খরচাপাতি বাবদ দুই লাখ টাকা দাবি করে। এছাড়া এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পিএসও তার পরিচিত বলে জানায় সে। প্রথম দফায় সে ৩০ হাজার টাকা নেয়। এরপর ২০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়। বলে, এ টাকা না দিলে ব্যাংকের রোল আসবে না। ১২তম জুডিশিয়ারিতে দ্বিতীয় হয়ে সে জজ হয়েছে বলেও জানায়। এরপর সে মেসেজ করে আইডি ও রোল পাঠায়। ব্যাংক থেকে এ পদ্ধতিতে কোন কিছু পাঠানো হয় না বলে তাকে জানালে সে আমাকে মেইল করে পাঠাবে বলে জানায়। এরপর সে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের প্রথম অক্ষর দিয়ে একটি মেইল আইডি খুলে সেখান থেকে মেইল পাঠায়। তখন আমার মনে হলো যে, ব্যাংক থেকে মেইল আসলে ব্যাংকের নিজস্ব একাউন্ট থেকে এইচআরের মাধ্যমে আসবে। এরপর বিষয়টি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিচিত বড় ও ছোট ভাইদের জানালে তারা আমাকে জানায় যে, ফয়েজ আলী একজন ফ্রড। এরপর তাকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে বলি। দুপুরে সে ঢাবি ক্যাম্পাসে আসে এবং টাকা ফেরত দেয়। আর যেন জালিয়াতি করতে না পারে এজন্য তাকে আটকে রেখে প্রক্টরিয়াল টিমে খবর দেয়া হয়। তারা এসে ফয়েজ আলীকে ধরে নিয়ে যায়।

ফয়েজ আলীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি এলএলবি ও এলএলএম ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে। এর আগে তিনি পুলিশের ৩০তম ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানান। সংবাদের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি এসব কিছুই ঘটেনি বলে জানান। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে আমি অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছি। টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি সরাসরি টাকা নেইনি। টাকা নেয়ার জিম্মাদার ছিলাম। ‘টাকা নেয়া এবং তার জিম্মাদার হওয়া দুটিই সমান অপরাধ কিনা’ জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি। এর আগে লেডি টিউটর হিসেবে প্রতারণার অভিযোগে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছুই ঘটেনি। তখন আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। আমি সে মামলা থেকে খালাস পেয়েছি।