• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

অনন্য দৃষ্টান্ত

ফেসবুক-মোবাইল ম্যাসেঞ্জারে পুলিশ পৌঁছে যাচ্ছে দোরগোড়ায়

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

| ঢাকা , রোববার, ১৭ মে ২০২০

কোভিড-১৯ আতঙ্কের মধ্যে রাতের আঁধারে অসহায়, দুস্থ ও মধ্যবিত্তদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ বিভাগ। প্রাত্যহিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গত দু’মাস ধরে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারে খাবার পৌঁছে দিয়েছে তারা। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান ও তার দলের চৌকশ অফিসাররা রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই মানবিক কাজটি করে যাচ্ছেন। শুধু শহর নয় দুর্গম চরেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী। শহরের বাসিন্দা আসমা বেগম (৪৫) ও আফজাল হোসেন (৪০) জানান, ‘লাইনে দাঁড়াতে ভীষণ লজ্জা করে। কারও কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে না পারায় লিস্টে নাম ওঠেনি কখনোই। এদিকে সংসারে চলছে দুর্দশা অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে লজ্জা ত্যাগ করে এসপি স্যারকে আমরা ফোন দেই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নাম ঠিকানা লিখে নেন। এরপর রাত এগারটায় সত্যি সত্যি খাবার পৌঁছে দেন পুলিশ সদস্যরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, সহযোগিতা চেয়ে এসপির নম্বরে এসএমএস করেছিলাম। খুব একটা আশা ছিল না। কেননা চরের মধ্যে থাকি কে আর খোঁজ নেবেন। পরের দিন আমাকে ফোন দেয় পুলিশ। গিয়ে দেখি এসপি স্যারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রির একটি প্যাকেট আমার জন্য নিয়ে এসেছে। সেখানে চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, লবণ ও সাবান ছিল। কৃতজ্ঞতায় আমার চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে পরে। আমি সে অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে পারব না।

খাবার পৌঁছে দিতে আসা এটিএসআই কামরুজ্জামান, ইন্সপেক্টর সুমন জানান, ওইসব মানুষের হাতে এসপি স্যারের নামে যখন খাবার হাতে তুলে দেই তখন তাদের চোখে মুখে যে আনন্দ, হাসি আর কৃতজ্ঞতা ফুটে ওঠে তা দেখে সব ক্লান্তি নিমেষেই মুছে যায়। স্যারের সঙ্গে সারাদিন ডিউটি করার পর তারাবি নামাজ শেষে এসপি স্যারসহ কখনও ৮/১০ জনের টিম নিয়ে কখনো বা তার নির্দেশে আমরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাই খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, জেলা পুলিশের ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রায় দু’মাস ধরে চাল, ডাল, আটা, তেল, লবণ, আলুসহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে একটি প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। জেলার ১১টি থানায় নিরাপত্তা দেবার পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে হরিজন সম্প্রদায়, দলিত সম্প্রদায়, শ্রমিকসহ প্রায় ৪ সহস্রাধিক পরিবার ছাড়াও ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, এসএমএম এবং ফোন কলের মাধ্যমে এক হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব যতদিন থাকবে ততদিন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই সহায়তা চালু থাকবে বলে জানান তিনি।