• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

আঁলিয়স ফ্রঁসেজে

ফারজানা মিল্কীর ভাস্কর্য প্রদর্শনী শুরু

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

image

গতকাল আঁলিয়স ফ্রঁসেজে নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর শিল্পী ফারজানা মিল্কীর ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন -সংবাদ

শিল্পের রূপ রকমারী। শিল্পের ভাষা অনন্ত। শিল্পের আবেদন সার্বজনীন। শিল্পই পারে একটি বিস্তর বিষয়কে এক ফ্রেমে বেঁধে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করেতে। শিল্পের এই পথ পরিক্রমায় আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হলো শিল্পী ফারজানা ইসলাম মিল্কি এর ‘ছন্দময় জীবন-২’ শীর্ষক একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক লালারুখ সেলিম।

প্রায় ২৮টি ভাস্কর্য নিয়ে এই প্রদর্শনীটিতে শিল্পী ফারজানা ইসলাম মিল্কি বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে ও পরিবেশে মানব শরীরের অবয়ব পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্ঠা করেছেন। মানুষ, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পরিবেশের সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ারই গল্পে মুখর তার ভাস্কর্যগুলো। মানবজীবনের প্রাত্যহিক কাজকর্ম, মানুষে মানুষে অথবা মানুষের সঙ্গে পরিবেশের পারস্পরিকতা, মানবসৃষ্ট স্থাপত্যের ভেতর মানব তার ভাস্কর্যের বিষয় হয়ে ওঠে। তার প্রদর্শনীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানব অবয়বের বিভিন্ন ক্রিয়া ও অঙ্গভঙ্গি, যা তিনি তার ভাস্কর্যে ডিটেইলসের খুঁটিনাটিতে নয় বরং তার গতিশীল প্রতীতি ও উদ্দেশ্যের এক অভিঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। মানুষের অবয়ব এবং তার চলাফেরা এক ভাবকে ফুটিয়ে তোলে, প্রকাশভঙ্গির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনা তার ধৃতি নয়। তার আখ্যানগুলো এক অভিঘাত সৃষ্টি করে, যা নাটকীয় নয় বরং অনেকটা যেন বয়ে চলা সময়ের কোন এক বিশেষ মুহূর্তকে আটকে ফেলেছেন তারা যেন তাদের কোন কাজের মাঝখানে ধরা পড়ার উত্তেজনায় মুখর, আমাদের কল্পনাকে যার ইতিটা ভেবে নিতে প্রলুব্ধ করে তারা। তার বিষয়গুলো নাটকীয় নয়, অনন্যসাধারণ নয়। প্রাত্যহিক ও সাধারণ্যেই তার বিচরণ, জীবনের প্রবহমানতা হতে যেন একটি তাৎপর্যময় মুহূর্তকেই বন্দী করতে চান। ভাস্কর্যশৈলীর ওপর তার দখল টের পাওয়া যায় তার ভাস্কর্যগুলির অবয়বের সুষম ভারসাম্যে। ভাস্কর্যের মাধ্যমের উপর তার গভীর অনুধ্যান এবং উপাচার আর ভাস্কর্যের আনুষ্ঠানিক ভাষার ওপর তার অনুভূতির সংবেদনশীলতা ধরা পড়ে তার ভাস্কর্যগুলোর বিষয় হিসেবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন উঠে আসায়। সফলভাবে ভাস্কর্যের ভাষা ধারণ করে তারা হয়ে ওঠে স্বাধীন স্বতন্ত্র সত্তা।

প্রদর্শনীটি চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।