• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

প্রয়োজনীয় নীতি সুবিধা পাচ্ছে না বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগ আকর্ষণ পিছিয়ে পড়ছে

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮

আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতি সুবিধা দিতে পারছি না। যার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে ফিরে যায়। বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবলও নেই। ফলে উন্নয়নের ভবিষ্যৎ ধাপে যাওয়ার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এখনও অর্জিত হয়নি। বিনিয়োগ আকর্ষণে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবায়ন ধাপে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটছে না। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি অনেক ধীর।

গতকাল রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন। পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি অ্যাম্বাসাডর ফারুক সোবহান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. এম মাসরুর রেজা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডার চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ৭ দশমিক ২ ভাগ প্রবৃদ্ধ আমরা অর্জন করেছি। এটা নিয়ে আমরা সুখী হতে পারি, কিন্তু আত্মতুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। যে দেশে মোট জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ ২৫ বছরের নিচে, সে দেশে আমরা কীভাবে বলি সক্ষমতা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রেড লজিস্টিকে আমরা প্রতিবছর ১১০০ কোটি টাকা হারাচ্ছি, এখন গড়ে ১০ দিন পণ্যবাহী জাহাজকে বহির্নোঙ্গরে থাকতে হয়, যা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব না। তিনি বলেন, মধ্য আয়ের অনেক দেশ আর এগুতে পারছে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ায় মাথাপিছু আয় এক হাজার ডলারে আটকে আছে বহুদিন হয়। এমনিভাবে থাইল্যান্ডসহ বহুদেশ মধ্য আয়ে আটকে আছে। তিনি বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতে চাচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক অবকাঠামো দিয়ে বাংলাদেশও বহুদূর যেতে পারবে না। পরের ধাপে যাওয়ার জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। উন্নত দেশ হতে হলে ২৪ বছরের মধ্যে দেশের মোট আয় তিন ট্রিলিয়নে উন্নীত করতে হবে, অর্থাৎ ২৪ বছরের মধ্যে আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ১০ থেকে ১২ গুণ বাড়াতে হবে।

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বলে, বাংলাদেশের ট্যাক্স পলিসি কতদিন স্থির থাকবে, কতদিন বৈদেশিক নীতি অপরিবর্তিত থাকবে, আমরা এসবের কোন উত্তর দিতে পারি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিনিয়োগকারীরা এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতেই থাকে। তারা একস্থানে কোন সমাধান পায় না। আমরা নীতি সংস্কারের কথা বলছি কিন্তু বিডাকে আমরা যথেষ্ট ক্ষমতা দিচ্ছি না, পর্যাপ্ত জনবলও নেই। সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু কমপক্ষে ৫-৭টি অগ্রাধিকার দিয়ে দৃশ্যমান করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাম্বাসাডর ফারুখ সোবহান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার জন্য ২৫০ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই প্রয়োজন যা অনেক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। বিনিয়োগ পরিবেশের বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, স্যামসাং কোম্পানিকে বাংলাদেশে কারখানা করতে দেয়া হলো না। তারা ভিয়েতনামে কারখানা করল। তাদের একটি কারখানায় দুই বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করেছে যা আমাদের মোট রপ্তানির চেয়ে বেশি। আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় আমলাতন্ত্র আরও কার্যকর করতে হবে। তাছাড়া নীতি সংস্কারেরও তাগিদ দেন তিনি।