• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

প্রতিবন্ধী শিশুদের আর্ট ক্যাম্প

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

image

ছবি আঁকছে প্রতিবন্ধী শিশু -সংবাদ

অটিজম শিশুদের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের লিচুতলার চারপাশে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে এই আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিল্পী হাশেম খান ও রফিকুন নবী। ‘আর্ট ফর অটিজম’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করেছে ঢাবি চারুকলা অনুষদ ও চাইল্ড ফাউন্ডেশন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, চাইল্ড ফাউন্ডেশনের তাহরিন আমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী হাশেম খান বলেন, আমি ‘অটিজম’ শব্দটি ব্যবহার করার পক্ষপাতি নই। আমি মনে করি, একটি শিশু যেভাবে আছে, সেটাই স্বাভাবিকতা। প্রত্যেকটা মানুষ এক রকম চেহারার হয় না। কেউ অভিনেতা বা অভিনেত্রী হয়ে জন্মায় না। মা-বাবাদের এ বিষয়গুলো বুঝতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন শিশুর কোথায় দুর্বলতা তা দেখতে হবে। সেই দুর্বলতা দূর করার জন্য আনন্দের মাধ্যমে শিখিয়ে তাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। কেবল স্পেশাল চাইল্ড নয়, স্বাভাবিক শিশুদের ক্ষেত্রেও একই আচরণ করতে হবে।

শিল্পী হাশেম খান আরও বলেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুদের ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোনকিছু বলে দেবেন না, কোন শিক্ষক রাখবেন না। শিক্ষকরা আরও ক্ষতি করবে। চারুকলার ছাত্র বা শিক্ষক যেই স্কুল করুক না কেন, তাতে যদি শিশুদের ঠিকমতো মনস্তাত্ত্বিক পরিচর্যা না করতে পারে, তাহলে শেখানোর প্রয়োজন নেই। বেশিরভাগ জায়গায় আমি দেখেছি কোন পুরস্কার পাওয়া ছবি শিশুদের সামনে টানিয়ে দিয়ে ওই রকম করে আঁকতে বলা হয়। এটা অন্যায়। নাচ, গান আর ছবি আঁকা এক জিনিস নয়।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, অটিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুরা অধিকাংশ সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করার সুযোগ পায় না। তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পায় না। তারা তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের সুযোগ পেলে সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না, দেশের সব উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে পারবে। আর সেজন্য এ শিশুদের অভিভাবককে সচেতন হতে হবে।

ক্যাম্প উদ্বোধনের পর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আর্ট ক্যাম্পে ৮৩ জন বিশেষ শিশু ছবি আঁকে। বিশেষ শিশুদের শৈল্পিকতায় বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠে ছবি। বিশেষ শিশুদের পাশাপাশি আর্টক্যাম্পে আরও ছবি আঁকেন মুস্তাফা মনোয়ার, রফিকুন নবী, হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, অলকেশ ঘোষ, রোকেয়া সুলতানা, কালিদাস কর্মকার, শিশির ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ ইউনুস, শেখ আফজাল, মিনি করিম, বিপাশা হায়াতসহ ৪৯ জন শিল্পী। এতে আরও ছিল পাপেট শো। আজ আয়োজনের শেষ দিনে শিশু শিল্পীদের আঁকা ছবি নিয়ে অনুষদের লিচুতলা সংলগ্ন ভবনের নিচে অনুষ্ঠিত হবে প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে চিত্রকর্ম বিক্রয়ও হবে। বিক্রির সেই অর্থ তুলে দেয়া হবে বিশেষ শিশুদের অভিভাবদের হাতে।