• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পিয়াজের দাম কমেছে সামান্য

বেড়েছে সবজিতে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

সপ্তাহের ব্যবধানে পিয়াজের দাম কিছুটা কমলেও সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে আর কিছু সবজির দাম বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পিয়াজের দাম কমে ১০০-১২০ টাকা হয়েছে। এ হিসেবে পিয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু রসুনের দাম এখনও চড়া। গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। আর বর্তমানে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। সেই হিসেবে দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। আদা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০-১৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছিল ১৫০-১৫৫ টাকায়। তার আগের সপ্তাহে আদা বিক্রি হয়েছিল ১২০-১৩০ টাকায়। পিয়াজের দামের বিষয়ে মালিবাগের একজন ব্যবসায়ী বলেন, শ্যামবাজারে পিয়াজের দাম কমায় আমরা কম দামে বিক্রি করছি। মায়ানমারের পিয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। সামনে হয়তো দাম আরও একটু কমতে পারে।

লাউ, করলা, টমেটো, শসা, শিম, শালগম, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনে বাজার ভরপুর থাকলেও দাম বেশ চড়া। ফলে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষকে বেশ ভোগাচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো এখনও বাজারে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে করলা। করলা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। ১০০ টাকার ঘরে থাকা সবজির তালিকায় আরও আছে- লাউ, বরবটি এবং কচুর লতি। বাজার ও আকার ভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-১০০ টাকা পিস। বরবটির কেজি ৮০-১০০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

গত সপ্তাহের মতো শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা কেজি। পেঁপে ৩০-৫০ টাকা, দেশি পাকা টমেটোর কেজি ৪০-৬০ টাকা। কাঁচা পেঁপে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম ও গাজরের। ভালোমানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।

সবজির চড়া বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে বেগুন, মুলা, কাঁচা মরিচের। গত সপ্তাহে ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুলার দাম বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা হয়েছে। ৪০-৫০ টাকার বেগুন দাম বেড়ে ৫০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায় যা পত সপ্তাহে ছিল ১৫-২০ টাকা। সবজি ব্যবসায়ী মিলন বলেন, শীতের ভরা মৌসুমে সবজির এতো দাম আগে দেখিনি। বরাবরের মতো এবারও শীতের শুরু থেকেই বাজারে ভরপুর সবজি আসছে, কিন্তু দাম কমেছে না। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকাতেই সব কিছুর দাম এমন চড়া।

মাছ বাজারে দেখা যায়, রুই মাছ ২২০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ১৩০-১৭০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল মাছ ৪০০-৭৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, টেংরা ৪৫০-৬০, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকা কেজি। পাকিস্তানি কক ২৩০-২৪০, লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ এবং খাসির মাংস ৭০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও মাংসের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে দেখা যায়, ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫৫ টাকা। ভালো মানের নাজিরশাইল চাল ৫৬ টাকায়, মাঝারি মানের নাজিরশাইল চাল ৫২ টাকায়, পাইজাম চাল ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায় ও পুরাতন ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা দরে। বাজার দুটিতে প্রতি কেজি চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আর মোটা মসুর ডাল ৭০ টাকায় ও মুগ ডাল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন করে দাম আর বাড়েনি। শুধু চড়া সুগন্ধি চালের দাম। পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ৯০ থেকে ৯২ টাকা। খুচরা বাজারে দর ১০০ থেকে ১১০ টাকা। দুই মাসে বাড়তি কেজিপ্রতি ১২ টাকার মতো।

ফার্মের ডিমের ডজন (১২টি) ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা কেজির আশপাশে মিলছে। গরুর মাংস সেই ৫৫০ টাকা কেজিতেই রয়ে গেছে। ইলিশের দাম বেশ কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিটি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা বর্ষায় ভরা মৌসুমেও ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়।