• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

পিকে হালদারসহ ৮ জনকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা কামনা

আরও ৮০ জনের তালিকা তৈরি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ পাচার করে বিদেশে অবস্থান করা প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাতে তাদের নাম আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটির সহায়তা চেয়েছে দুদক। এছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। এসব অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। গত কয়েক বছরে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তা জানতেও কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

অর্থ পাচারকারী এবং পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ জানার পাশাপাশি তা দেশে ফিরিয়ে আনার পক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলতে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে টিম পাঠানোর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তও পেয়ে গেছে দুদক। কিন্তু মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দুদকের টিম সিঙ্গাপুরে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিম সিঙ্গাপুরসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যাবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। গতকাল দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে যারা বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন ৭-৮ জনের তালিকা ইতোমধ্যে ইন্টারপোলে গেছে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার ও তার স্ত্রী, কাজী ফকরুল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মচারী আবজাল ও তার স্ত্রী রুবিনা খানম, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক খাজা সোলায়মান ও তার স্ত্রী এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালুর নাম পাঠানো হয়েছে। আরও অনেকের নাম পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এসব ব্যক্তিদের নামের তালিকা পাঠানোর বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো অর্থপাচারীদের মধ্যে কারও কোন রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এসব তথ্য সংগ্রহ করি না। আমরা মূলত অন্যায়-অপরাধটাই দেখি। কেউ আমাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে কিনা বা আবার কেউ সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, এমন ব্যক্তিরা। কে প্রভাবশালী, আর কে প্রভাবশালী নন, তা আমাদের দেখার কথা না।

বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় আসামি হয়ে যেসব ব্যক্তি দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছেন তাদেরও ফেরত আনতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হবে। একই সঙ্গে তালিকা এবং মামলার নথিও দেয়া হবে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে কোন সফলতা আসছে না। বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে বেশ কিছু অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়লেও ফেরত আনার বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই। ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিন দফায় সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে থাকা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফেরত আনতে পেরেছিল দুদক। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার উদ্ধার করে দিয়েছে বাংলাদেশ। পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিআইডি কাজ করছে। কিন্তু এ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। যে কারণে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। তবে এবার এককভাবে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিচ্ছে দুদক। এ ক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় দূতাবাসগুলোকে দুদককে সহযোগিতা করতে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।