• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি পালন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

image

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি -সংবাদ

বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি পালিত হয়েছে। গতকাল ঢাকা, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কোন অঞ্চলকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় না। এ উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নেন। সে প্রেক্ষাপটে ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৩টি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৯টি বাস্তবায়র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটায় আঞ্চলিক অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশ, সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য রাজধানীর বেইলি রোড়ে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। পার্বত্যবাসীর উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডগলাস সিমসন ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আলাদাভাবে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটি কলেজ থেকে এক বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। পরে ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়।

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে পালিত হয়েছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি। সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে ৩ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার শুরুতেই শান্তির প্রতীক পাঁয়রা উড়িয়ে দিনের শুভ সূচনা করা হয়।

ঐক্যের মাঝে শান্তি পাই, পাহাড়ি বাঙালি ভাই ভাই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবান জেলা পরিষদের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজার মাঠে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে রাজার মাঠে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার আয়োজন করা হয়। পরে এই উপলক্ষে রাজার মাঠে পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করেন। ফলে পাহাড়ে সূচিত হয় শান্তি, সম্প্রীতি ও নব যুগের সূচনা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শান্তিচুক্তি জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। শান্তিচুক্তি সম্পাদনের ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূষিত হয়েছিলেন ইউনেসকো শান্তি পুরস্কারে।