• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

নোয়াখালী

পারভীন ও শিপন হত্যারহস্য উদ্ঘাটন

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নোয়াখালী

| ঢাকা , সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শিপন ও সুধারামে পারভীন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে ১২০ দিনের মধ্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পিবিআই।

নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নোয়াখালীর সদর থানার পূর্ব শুল্লকিয়ার জহিরুল হকের মেয়ে পারভীন গত বছর ২১ মে চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ডের কাজী অফিসে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ডিগ্রির চরের শুক্কর আলীর ছেলে মো. শেখ সেলিম (৩০)কে বিয়ে করে।

বিয়ের কথা জানাজানি হওয়ার পর সেলিমের প্রথম স্ত্রী ও বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম এসে ২য় স্ত্রী পারভীন আক্তার ফাহিমাকে মারধর করে। এরপর ফাহিমা নোয়াখালীতে চলে আসে। ফাহিমার বাবা বিয়ের খবর জানত না। এদিকে নোয়াখালীতে ফাহিমার বাবা তাকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাতে থাকলে ফাহিমা মোবাইলে স্বামী শেখ সেলিমকে তা জানায় এবং এসে তাকে নিয়ে যেতে চাপ দেয়।

এ নিয়েও তাদের মধ্যে রাগারাগি হয়। এক পর্যায়ে সেলিম গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী আসে এবং গোপনে ফাহিমাদের বাড়ির পিছনের বাগানে লুকিয়ে থাকে। রাত ৯টায় ফাহিমা তার সঙ্গে দেখা করে অনেক গালাগালি করে এবং রনি নামক এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানালে সেলিম উত্তেজিত হয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফাহিমাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরদিন এ ব্যাপারে সুধারাম থানায় মামলা হয়। মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরিত হয়। পিবিআই গত ৩ মার্চ আদালতে শেখ সেলিমের নামে চার্জশিট দাখিল করে। বেগমগঞ্জের সুলতানপুর বাজারে শিপন হত্যাকান্ডের তদন্তভার পিবিআই গ্রহণ করে। শিপন হত্যার আসামি ইমন (১৯)কে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার পানাহার গ্রামের আল আমিন মিয়ার ছেলে। তাকে গত ২ মার্চ গ্রেফতার করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করায়। জবানবন্দিতে ইমন স্বীকার করেন তার সিএনজি গ্যারেজের মালিক শিপন তাকে সব সময় গালাগালি করত এবং মারধর করত। তাই সে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শিপনকে হত্যা করে তার ডিসকোবার হোন্ডা নিয়ে পালিয়ে যায়। পিবিআই তদন্ত শেষে গত ১০ এপ্রিল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুটি হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে তা বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠায়। জজ আদালত মামলা, জিডি গ্রহণ করেছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মহিব উল্যা জানিয়েছেন।