• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

নৌপথ উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নদীবন্দর উন্নয়ন ও নৌপথ খনন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানগাঁও ও আশুগঞ্জে দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণসহ নৌপথ উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ২ হাজার ৮৮০ ও বাংলাদেশের ৩২০ কোটি টাকা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৬-৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত। প্রকল্পের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে পানগাঁও ও আশুগঞ্জে দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ সংক্রান্ত সমীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ভোলা নাথ দে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিডিসির দলনেতা সুভাশীষ সেন, বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার রাজেশ রোহতগি ও প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান সেলিম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টেকহোল্ডাররা এতে অংশ নেয়। কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ নৌযান এ করিডোরের মধ্য দিয়ে চলাচল করে এবং দৈনিক প্রায় দু’লাখ যাত্রী এসব জলপথ ব্যবহার করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথের ওপর পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলো উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে প্রাথমিকভাবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ফান্ডের সহায়তায় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। সার, গম, ভুট্টা, সিমেন্ট ও অন্যান্য পণ্য নদীপথে সহজে পরিবহনের জন্য পানগাঁও এবং আশুগঞ্জে দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প ১-এর আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কার্গো টার্মিনাল দুটির মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। প্ল্যান অনুযায়ী টার্মিনাল দুটিতে আরসিসি জেটি (প্রতিটিতে চারটি করে), টার্মিনাল ইয়ার্ড, টার্মিনাল ভবন, গোডাউন, ট্রাক পার্কিং ইয়ার্ড, অ্যাপ্রচ রোড, নিরাপত্তা দেয়াল, গেট হাউস, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, পাম্প স্টেশন নির্মিত হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প ১-এর আওতায় বিআইডব্লিউটিএ এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম করিডোরের আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে মূল নদী ও শাখাগুরো পিবিসি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাব্যতা সংরক্ষণ (প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ), ছয়টি স্থানে যথা- ষাটনল, চাঁদপুর, চরভৈরবী, মেহেন্দীগঞ্জ, সন্দ্বীপ ও নলচিরায় নৌযানগুলোয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, তিনটি ফেরি পারপার এলাকা যথাÑ চাঁদপুর-শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর-ভোলা ও ভেদুরিয়া-লাহারহাটে সংরক্ষণ ড্রেজিং, শ্মশানঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর এবং বরিশালে চারটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন, পানগাঁও ও আশুগঞ্জে ২টি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন, বিভিন্ন স্থানে যেমন- ভৈরব বাজার, আলু বাজার, হরিণা, হিজলা, মজু চৌধুরী, ইলিশাঘাট (ভোলা), ভেদুরিয়া, লাহারহাট, বদ্দারহাট, দৌলতখাঁ, চেয়ারম্যানঘাট (চরবাটা), সন্দ্বীপ, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও তমুরুদ্দিনে ১৫টি লঞ্চ ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং ২টি মাল্টিপারপাস ভেসেল সংগ্রহ করা হবে। পানগাঁও ও আশুগঞ্জে ২টি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণÑ চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌ-করিডোর ও নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালের বর্ধিতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার রুট বা জলপথ হিসেবে শনাক্ত এবং চিহ্নিত করা হয়েছে বলে নৌমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।