• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ ১৪৩৯

নারায়ণগঞ্জে হত্যা-সন্ত্রাস বেড়েছে

ত্বকি মঞ্চের উদ্বেগ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

নারায়ণগঞ্জে হত্যা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে সন্ত্রাস নির্মূলে ত্বকি মঞ্চ। গতকাল সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জেলার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নিন্দা জানানো হয়। তারা শীঘ্রই ত্বকি হত্যার অভিযোগ পত্র দাখিলের দাবি জানান।

আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি ও সদস্য সচিব হালিম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আবারও হত্যা ও সন্ত্রাস ভয়াবহ আকারে বেড়েছে। প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমেও এর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতার মধ্যে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী রাজু নামে এক মাদক বিক্রেতাকে হত্যা করা হয়। সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের জামতলাস্থ হেনা টাওয়ারের টর্চার সেলে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে নিহত মাদক বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী রাজু প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের লোক বলে সংবাদে প্রকাশ। এই ঘটনাটিকে আমরা নারায়ণগঞ্জে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রকৃত চিত্র বলে মনে করছি।

আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এর কয়েক দিন পর ১৮ মার্চ ত্বকি হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে এই অয়ন ওসমানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে আমরা অবগতি-পত্র দেই। হত্যাকা-ের এক বছরের মাথায় ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব তাদের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে খসড়া অভিযোগপত্র প্রদান করে জানায়, আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে তার নেতৃত্বে ১১ জন ত্বকিকে হত্যা করেছে। অচিরেই এ অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে। এরপর চার বছর হতে চললো আজো অভিযোগপত্র আদালতে প্রদান করা হয় নাই। এ ঘাতকরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এ নির্লিপ্ততা ঘাতকদের এমন হত্যাকা-ে ও সন্ত্রাসে আরও উৎসাহিত করেছে।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে টর্চার সেল বানিয়ে, তাতে নির্যাতন করে ঘাতকরা হত্যাকা- ঘটাতে থাকলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন প্রয়োজন থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি না। প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে রাজপথে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা যেখানে কমিউনিটি পুলিশের বিশেষ কর্মকর্তা হয় সেখানে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হবার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষপাত দুষ্ট আচরণের কারণেই নারায়ণগঞ্জে হত্যা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার চলছে বলে আমরা মনে করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা প্রশাসনের এ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, ক্ষোভ প্রকাশ করছি।