• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১

সরকারকে বিশেষজ্ঞরা

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বার্থে কয়লাসহ অন্য জীবাস্ম জ্বালানি পরিহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পাওয়ার সেল এর সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌ. বিডি রহমতুল্লাহ, বিদ্যুৎ বিভাগ এর নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেল এর যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলি এর অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল এম ক্যামেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভূতত্ত্ব বিভাগ এর অধ্যাপক বদরুল ইমাম, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর এনার্জি প্যানেল এর চেয়ারম্যান ড. আহমেদ বদরুজ্জামান, ঢাবি’র ইনস্টিটিউট অব এনার্জির পরিচালক এবং বাংলাদেশ সোলার এনার্জি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল হক, জিআইজেড এর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচির প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী আল মুদাব্বির বিন আনাম, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন, ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ।

অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমরা পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি চাই। আমরা আশা করি বিদ্যুৎখাত উন্নয়নে সরকার পরিবেশ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। দেশ ও জনগনের স্বার্থে সম্বিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বিশেষ অতিথির বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তিগুলো গ্রহণ করে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা না করে আমাদের দেশের বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গ্রহণের জন্য যতটুকু খোলা জমি দরকার সেটিও আমাদের পর্যাপ্ত নেই। তবে এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি, গবেষণা করছি। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও একাজে যুক্ত হতে পারে। গবেষণার জন্য তাদের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। সম্মিলিত উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও উন্নয়নে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

প্রকৌ. বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের নবায়ণযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বে জীবাস্ম জ্বালানির দিকে ঝুকে পড়ছে সরকার। অথচ জীবাস্ম জ্বালানি পরিবেশ-মাটি, প্রকৃতি বান্ধব নয়। এথেকে সরে এসে সারাবিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আমাদের এগুতে হবে।

ড. ড্যানিয়েল এম ক্যামেন বলেন, ভারত, দুবাই, ব্রাজিল, অস্টেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় সোলার নির্ভর প্রকল্প চালু হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন চিন্তা করতে হলে সৌর জ্বালানির ওপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। আর বাংলাদেশে এই সম্ভাবনা খুবই উজ্জ¦ল। তিনি বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ব্যয়বহুল কয়লাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য যুক্তিহীন।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, তেল, গ্যাস, কয়লা থেকে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম। ভবিষ্যতে জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে সরকারকে চিন্তা করতে হবে।

অধ্যাপক মো. সাইফুল হক বলেন, জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জ্বালানি বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। এজন্য একটি নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ড. আহমেদ বদরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে না লাগিয়ে সুন্দরবন বিনাশী ক্ষতিকর প্রকল্প নিয়ে কাজ করা দুঃখজনক।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং এজন্য একটি লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়ও এটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এটি নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও গবেষণা হচ্ছে। যেসব প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে সেটি সমাধান করে কিভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো যায় সে প্রচেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে।