• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

পাবনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে

নবনির্মিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের কাজ বন্ধ দু’বছর ধরে

বাকি মাত্র এক শতাংশ কাজ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা

| ঢাকা , রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতালের নব-নির্মিত নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে রয়েছে। ফলে অনেক আশা নিয়ে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। গণপূর্ত বিভাগের চরম উদাসিনতায় কাজ শেষ না হওয়ার কারণ বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ আর ডায়াবেটিস সমিতি। পাবনা ডায়াবেটিস সমিতি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ-এ ২০১৩ সালে ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে এ নার্সিং ইন্সটিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকার ১৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে এবং বাকি টাকা পাবনা ডায়াবেটিস সমিতি পরিশোধ করে।

২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ এবং বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ এবং ফিটিংসের কাজ প্রায় শেষ করে শুধু বিদু্যুৎ সংযোগ আর পানির লাইনের কিছু কাজ বাকি রাখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নির্মাণ কাজের ৯৯ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, মাত্র ১ শতাংশ কাজ বাকি থাকায় গণপূর্ত বিভাগ তা ডায়াবেটিস হাসপাতালের কাছে বুঝিয়ে না দেয়ায় নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম এখনও শুরু করা যায়নি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতালের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবি ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও মাত্র ১ শতাংশ কাজ বাকি থাকায় গণপূর্ত বিভাগ এখনও নব-নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি ফলে গত দুই বছরেও নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে বার বার তাগাদ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ লাইন আর পানির লাইনের সামান্য কিছু কাজ বাকি রেখে বছরের পর বছর নব-নির্মিত এ ভবন পরে থাকায় অযতœ আর অবহেলায় ভবনের বিভিন্নস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কাজ শেষ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই দফায় সময় বৃদ্ধি করে এ বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এখনও কাজ চূড়ান্ত করে নব-নির্মিত এ নার্সিং ইন্সটিটিউট ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতালের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি গণপূর্ত বিভাগ বলে জানান বেবি ইসলাম। এ অবস্থায় আগামী শিক্ষাবর্ষে ক্লাশ শুরু করা নিয়েও তার সংশয় রয়েছে।

তিনতলা ভবনের এ নার্সিং ইন্সটিটিউটে ২০০ ছাত্রীর আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রমের সর্বাধুনিক সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাবনা ডায়াবেটিস হাসপাতাল সূত্র।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে যা শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব নবনির্মিত এ প্রতিষ্ঠান ডায়াবেটিস হাসপাতালের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে এতদিন কেন হয়নি সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, গণপূর্ত বিভাগের কোন গাফিলতি নেই।