• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

মির্জাপুর থানায়

ধর্ষককে আটকের ১৪ ঘণ্টা পর থানায় মামলাগ্রহণ

আপোসের তালবাহানায় সময়ক্ষেপণ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা-হাজতে ধর্ষণের ঘটনায় আটকের ১৪ ঘণ্টা পর আজিম মিয়া ওরফে শিমুল (২৮) নামে এক ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই ১৪ ঘণ্টা থানা-হাজতে আটকে রেখে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন আলোচনা চালিয়েছেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য। তবে থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বিষয়টি জানতেনই না বলে জানা গেছে। ওসি জানার পর এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের পাহাড়পুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে শিমুলের সঙ্গে একই গ্রামের কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ের প্রলোভনে সে তার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দৈহিক সম্পর্ক করতো। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে শিমুল অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে কৌশলে শিমুল মেয়েটির ঘরে ঢুকে। সেখানে সে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল ভোর ৬টার দিকে শিমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে এ ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও এস আই বিজয় দেবনাথ নানাভাবে তালবাহানা করেন। বিষয়টি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধর্ষিতা, তার ভাই ও বাবা মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। ধর্ষিতা মেয়েটি তাকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে বার বার কেঁদে ফেলেন। পুলিশের কাছে গিয়েও তাদের লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা পুনরায় থানায় যান। সেখানে পুলিশের কাছে ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা করতে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেন। বাবা ও ভাইসহ থানার ওয়ারলেস অপারেটর মাহামুদুল হাসানের কাছে গিয়ে মামলা লেখাতে চান। তখন পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ধর্ষিতার ভাইয়ের শার্টের কলার ধরে টেনে তার কক্ষে নিয়ে মুঠোফোন হাতিয়ে নিয়ে বের করে দেন। অপরদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওসি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বপালন শেষে থানায় তার কক্ষে বসেন। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরে সঙ্গে আলোচনাকালে ধর্ষণের ঘটনায় এক অভিযুক্ত আটকের বিষয়টি তিনি জানতে পেরে হতবাক হন। পুরো ঘটনা জানার পর তার নির্দেশে থানায় মামলা হয়।

মাহামুদুল হাসান জানান, ধর্ষিতার ভাইয়ের মুঠোফোন পরিদর্শক নিয়েছিলেন। তবে তিনি কলারে ধরেননি।

এস আই বিজয় দেবনাথ বলেন, তিনি রাতে ডিউটি করে আসামিকে আটকের পর দিনে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বিষয়টি পরিদর্শককে (তদন্ত) জানিয়েছিলেন। ওসি তার ওপর রাগ করার বিষয়ে বলেন ‘এটা ইন্টারনাল ব্যাপার।’

পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। ওসি জানার পর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হন ধর্ষিতা নিজেই। ঘটনায় অভিযুক্ত শিমুলকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার টাঙ্গাইলের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে ও ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ওরা ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।