• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১

দুর্নীতি দমন করা অত্যন্ত জটিল

দুদক চেয়ারম্যান

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি একটি গভার্ন্যান্স ইস্যু ও এর নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জটিল। দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদ, আমলা, সুশীল সমাজ, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, এনজিও, ব্যবসায়ীসহ সবার সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। গতকাল দুদক প্রধান কার্যালয়ে ইউএসএআইডিয়ের কনসালট্যান্ট জনাতন রোজ ডেবিড টিমবারমান ও গভার্ন্যান্স অ্যাডভাইজর রুমানা আমিন অর্চির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর এ মতবিনিময় সভা হয়।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের নিজস্ব সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই বর্তমান কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং কর্মপ্রক্রিয়ায় ব্যক্তির ভূমিকাকে গৌণ করে পদ্ধতিগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। দুদক প্রতিষ্ঠার আগেও দুর্নীতি দমনে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। তারপরও কেন কমিশন করার কারণ হলো, মূলত দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত কর্মকৌশল প্রয়োগ করে সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এবং সমাজের সর্বস্তরে প্রবহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা ও এর প্রসার সুনিশ্চিত করা। বর্তমান কমিশন সবচেয়ে বড় সংস্কার করেছে অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্রেডিং সিস্টেম প্রবর্তন করে। এখন কমিশনের যে কেউ ইচ্ছা করলেই নির্ধারিত নম্বরের কম পেলে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করতে পারবেন না। একইভাবে সম্পদ পুনরুদ্ধার ইউনিট, গোয়েন্দা ইউনিট, সশস্ত্র ইউনিট, হাজতখানা ইত্যাদি সৃষ্টি করে কমিশনের প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের তদন্তের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কমিশনের মামলায় সাজার হার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি উন্নীত হয়েছে। তবে তদন্তের মান যদি বিশ^মানের হতো, তাহলে হয়তো সাজার হার শতভাগে উন্নীত হতো। তাই কমিশন নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, দীঘসূত্রতা ও জনহয়রানি লাঘবের লক্ষ্যে কমিশন ২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে কমিশন প্রণীত বেশকিছু সুপারিশ সরকার কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া শুধু মামলা-মোকদ্দমা করে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে না।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশন স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে স্থানীয় সরকারি সেবাপ্রত্যাশী জনগণ ও সেবা প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে। জনগণের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অনুধাবন করছেন, জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। এতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠ উচ্চকতি হচ্ছে। তা দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশংসিত হচ্ছে। শুদ্ধাচার বিকাশ কমিশন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সততা স্টোর স্থাপন, সততা সংঘ গঠন ইত্যাদি কার্যক্রমও তাদের অবহিত করেন তিনি।