• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

লকডাউন শিথিল

দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে আক্রান্তের হার

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল

| ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

image

বরিশাল : বিশেষ শর্তে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেবার পর ঈদের মার্কেটিং করার জন্য বরিশার নগীর একটি সড়কের দৃশ্য -সংবাদ

গত এপ্রিল মাসের প্রথমভাগে বরিশালে করোনা রোগী পাওয়ার দিনই জেলা প্রশাসন বরিশাল জেলায় ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে। প্রথমদিকে সবাই লকডাউন মেনে চললেও সরকার দোকানপাট ‘বিশেষ’ শর্তে খোলার অনুমতি দেয়ায় এখনও দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলাতেই লকডাউন থাকলেও প্রশাসন অঘোষিতভাবে লকডাউনের কঠোরতা প্রত্যাহার করায় গোটা দক্ষিণাঞ্চল ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

লকডাউন শিথল করার পর গত এক সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনকি পুলিশ সদস্যসহ চিকিৎসক ও নার্স এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন। বরিশাল মহানগরী এতদিন কিছুটা নিরাপদ থাকলেও এখন নগরীতেই ক্রমান্বয়ে করোনা বিস্তার ঘটছে। শুধুমাত্র মহানগর পুলিশের দশজন সদস্য আক্রান্ত হয়ে এখন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রয়েছেন। গত শুক্রবার পুলিশ হাসপাতালের এক কর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স আক্রান্ত হওয়ার পর তার পুরো পরিবারের সবাই সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন।

প্রথমে নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রলার বা অন্য কোনভাবে দক্ষিণাঞ্চলে আসা শুরু করার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমিত হলেও এখন তা সামাজিক সংক্রমণের পর্যায়ে গেছে। ইতোমধ্যে যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা পরীক্ষা করে আক্রান্তের সংখ্যা ২১৬তে পৌঁছেছে। যার অর্ধেকই আক্রান্ত হয়েছে গত ১০ মে লকডাউন শিথিল করার পর। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে দ্বিগুনহারে বাড়ছে। গত রোববার দুপুরের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলে আরও ১৩ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ছোট জেলা ঝালকাঠীতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ এবং আরেক ছোট জেলা বরগুনাতে ৪২ জন চিহ্নিত হয়েছে। বরিশাল মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩০-এর কাছে। জেলায় মোট আক্রান্ত প্রায় ৭৫। এছাড়া ভোলায় গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য থেকে ১৬তে উন্নীত হয়েছে। পটুয়াখালীতেও ৩২ জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর। দক্ষিণাঞ্চলে ইতোমধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০ জন। যারমধ্যে ‘কোভিড-১৯’এ মৃত্যুর সংখ্যা ৬। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে বিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু গত মার্চের শেষে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বরিশালকে লকডাউনের আওতায় আনার পরে প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এপ্রিলের শেষভাগ থেকে তা পরিবর্তন হতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে, দিনে বৃষ্টি আর রাতে অভুক্ত বেওয়ারিশ কুকরের দলই অবাধ্য মানুষকে লকডাউন পালনে বাধ্য করছিল। কিন্তু গত ১০ মে থেকে দোকানপাট খোলার বিষয়ে শিথিলতা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। প্রথমে বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট না খোলার পক্ষে ছিলেন। এমনকি সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠকেও ব্যবসায়ীগণ দোকানপাট না খোলার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে সব এলামেলো হয়ে গেছে। ফলে করোনার বিস্তার ঘটছে। কিন্তু এর পরেও খুব বেশি প্রশাসনিক পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। তবে গত শনিবার বরিশাল মহানগরীর ৩টি দোকানে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে। গতকালও পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। পরিস্থিতি এমনই যে জীবনের চেয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতেই এখন মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর অনেক ব্যবসায়ী পরোক্ষভাবে তাদের উৎসাহিত করছেন বলে মনে হচ্ছে। এসব আত্মঘাতী কর্মকা- নিবৃত্ত করারও এখন কেউ আছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলে নুতন করে আরও ১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২১৬ তে দাঁড়াল। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল মহানগরীতে দু’জন, ভোলাতে ৬ জন, পিরোজপুরে ৩ জন ও ঝালকাঠীতে ২ জন রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়ে সুস্থাবস্থায় ঘরে ফিরেছেন আরও ৪ জন। এ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হলেন ১০৫ জন। এ পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২১৬ জনের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে মোট ৯৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হলেও প্রায় ৭৫ জন সুস্থ হয়েছেন।