• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

কুমিল্লায় জোড়া খুন

তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন : খুন দেখে ফেলায় আরেক খুন

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুমিল্লা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

কুমিল্লায় সৈয়দ জামাল ও আবুল বাশার চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের প্রায় ৩ বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ দুই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে ১২ মামলার আসামি আনিছ ও তার সহযোগী ৪ মামলার আসামি শহীদসহ ৫ জন। আনিছ ও শহীদকে গ্রেফতার করা হয়। আনিছ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে সৈয়দ জামালকে ও জামাল খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় ২৫ দিন পর দারোয়ান আবুল বাশারকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে আনিছ। গতকাল দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় কুমিল্লা পিবিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই কুমিল্লা ইউনিটের ইনচার্জ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গনি পিপিএম।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা ওসমান গণি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ১৪ জুন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বল্লভপুর এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের পেছন থেকে স’মিল মিস্ত্রি সৈয়দ জামালের লাশ উদ্ধার করে থানার পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এর ২৫ দিন পর ৯ জুলাই ওই ব্রিকফিল্ডের দারোয়ান আবুল বাশারকে তার অফিস কক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সৈয়দ জামাল হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী শাহীনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। এতে আদালত মামলাটির পুনর্তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়। এছাড়া দারোয়ান আবুল বাশার হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এটিও চাঞ্চল্যকর মামলার তালিকায় নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পিবিআই কুমিল্লাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি জানান, অজ্ঞাত আসামি ও ক্লুলেস এ ২টি মামলা গ্রহণের পর গত শনিবার বল্লভপুর গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে আনিছকে (৪৫) প্রথমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জেলার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মাদক ব্যবসায় বিরোধের জেরে শ্বাসরোধে সৈয়দ জামালকে হত্যা করে লাশ ইটভাটার পেছনে ফেলে রাখা হয় এবং এ হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় আনিছ ও শহীদসহ ৫ জন মিলে বাশারকে মাদকসেবন করিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

গত রোববার সন্ধ্যায় আনিছকে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ও তার ৪ সহযোগী মিলে পৃথক ২টি হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় এর আগে পুলিশের হাতে আটক শহীদ জেলহাজতে রয়েছে। দুটি হত্যাকান্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে। আসামি আনিছের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, ছিনতাইসহ ১২টি এবং শহীদের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও সাংবাদিকদের জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মতিউর রহমান ও পরিদর্শক কিশোর কুমার হাওলাদার।